ইরানের তেহরানে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। সেখানে থাকা পাখিগুলোও আতঙ্কে উড়োউড়ি করছিল। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যাঞ্চলীয় কমান্ড। একই সঙ্গে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি এবং সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অকার্যকর করার কথাও জানিয়েছে তারা।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর(আইআরজিসি) বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ধারাবাহিক হামলায় বাহিনীটির পরিচালনা কাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ অবকাঠামো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও নিয়ন্ত্রণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, তা অনির্দিষ্টকাল চলবে না। তার মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগবে, তবে এটি বছরের পর বছর ধরে চলার মতো নয়।
সংঘাতের মধ্যে ইরানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১১ জন সেনাসদস্য রয়েছেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানের পর এ পর্যন্ত ইরানে মোট বেসামরিক নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৪২ জনে। নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ত্রাণ সংস্থা ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছিল, মোট নিহতের সংখ্যা ৫৫৫। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এসব পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি।
মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বন্দর আব্বাসে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শহীদ বাহোনার পিয়ার রয়েছে। বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং বাড়তে থাকা বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জোরালো হলেও সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো মিলছে না।
সূত্রঃ আল জাজিরা