চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন–এর গোপন জবানবন্দির ভিডিও প্রকাশ করেছে হাউস ওভারসাইট কমিটি। সোমবার প্রকাশিত এই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেন। দু’জনই এবং প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন।
যদিও এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি অভিযোগ আনা হয়নি, তবু তদন্ত-সংক্রান্ত নথিতে বিল ক্লিনটনের নাম ও কিছু ছবি অন্তর্ভুক্ত থাকায় তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণের দাবি ওঠে।
ভিডিওর এক নাটকীয় মুহূর্তে দেখা যায়, হিলারি ক্লিনটনের আইনজীবী জানান—জবানবন্দির কক্ষের ভেতরের একটি ছবি বাইরে ফাঁস হয়েছে। এ সময় রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান লরেন বোয়েবার্ট স্বীকার করেন যে শুনানি শুরুর আগে তিনি একটি ছবি তুলেছিলেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় হিলারি ক্লিনটন টেবিলে মুষ্টাঘাত করে বলেন, “আমি আর এগোচ্ছি না। যদি আপনারা এভাবে করেন, তাহলে আমি শেষ।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা চাইলে আমাকে অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেন।”
পরে শুনানি সাময়িক বিরতিতে যায়। পুনরায় শুরু হলে তাঁর আইনজীবী ফাঁসের ঘটনায় কমিটিকে তীব্র সমালোচনা করেন এবং এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণ’ বলে আখ্যা দেন।
শুনানির কয়েক ঘণ্টা পর লরেন বোবার্ট ‘পিজাগেট’ প্রসঙ্গ তোলেন—যা একটি ভুয়া ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, যেখানে দাবি করা হয়েছিল ওয়াশিংটন ডিসির একটি পিজারিয়ার মাধ্যমে শিশু পাচার চক্র পরিচালিত হচ্ছিল এবং তা হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে জড়িত।
হিলারি ক্লিনটন জবাবে বলেন, “পিজাগেট সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। এটি বহু মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, আপনি এটি উল্লেখ করছেন।”
অন্য এক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এরিক বার্লিসন ‘হালকা প্রশ্ন’ দিয়ে শুরু করার কথা বলে ইউএফও সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইউএফও সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে হিলারি বলেন, “যা প্রকাশ করা সম্ভব, তা প্রকাশ হওয়া উচিত।”
বিল ক্লিনটনের জবানবন্দির এক পর্যায়ে জানতে চাওয়া হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কি সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা উচিত? জবাবে ক্লিনটন বলেন, “সেটা আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তিনি (ট্রাম্প) তাকে (এপস্টিন) ভালোভাবেই চিনতেন।”
ক্লিনটন জানান, ২০০২ বা ২০০৩ সালের দিকে ট্রাম্পের গলফ কোর্সে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এপস্টিন প্রসঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। ট্রাম্প নাকি বলেছিলেন, “আমরা বন্ধু ছিলাম, পরে একটি জমি সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে সম্পর্কের অবনতি হয়।” ক্লিনটনের দাবি, আলোচনায় কোনো ‘যৌন ইঙ্গিত’ ছিল না।

২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত তারিখবিহীন ছবিতে বিল ক্লিনটনকে দেখা যাচ্ছে। উপরের বাম পাশে ক্লিনটনের সঙ্গে এপস্টেইন; ছবির অন্য ব্যক্তিদের অংশ বিচার বিভাগ (DOJ) গোপন করেছে। | মার্কিন বিচার বিভাগ
জবানবন্দির মাঝামাঝি সময়ে বিচার বিভাগ প্রকাশিত একটি ছবির প্রসঙ্গ ওঠে। ছবিতে বিল ক্লিনটনকে একটি হোটেলের ‘হট টাব’-এ বসে থাকতে দেখা যায়, পাশে আরেকজন ব্যক্তি, যার মুখ অস্পষ্ট করা।
ক্লিনটন বলেন, ছবিটি সম্ভবত ব্রুনাই সফরের সময় তোলা হয়েছিল। তিনি জানান, সে সময় ব্রুনাইয়ের সুলতানের আমন্ত্রণে একটি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। “আমি পাঁচ মিনিটের মতো বসেছিলাম, তারপর উঠে ঘুমাতে গিয়েছিলাম,”—হাস্যরসের সুরে বলেন তিনি।
অন্য ব্যক্তি কে ছিলেন জানতে চাইলে তিনি দুইবার বলেন, “আমি জানি না তিনি কে।” ওই রাতে কোনো অনৈতিক বা যৌন কর্মকাণ্ড হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেন।
জবানবন্দির এক পর্যায়ে এপস্টিনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল–কে ক্ষমা বা দণ্ড লঘু করার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে মানব পাচারের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
বিল ক্লিনটন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে বলেন, “তিনি যা করেছেন তা ভয়াবহ, এবং তার শাস্তি হওয়া উচিত।”
হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে প্রারম্ভিক বক্তব্যে বিল ক্লিনটন বলেন, তিনি এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং তাঁদের সম্পর্ক ছিল ‘স্বল্প সময়ের পরিচিতি’, যা বহু বছর আগেই শেষ হয়ে যায়।
তিনি এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেটিই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় নথিতে ক্লিনটন ও এপস্টিনের সরাসরি বার্তা না পাওয়া গেলেও, ম্যাক্সওয়েল ও ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ সহকারী ডগ ব্যান্ডের মধ্যে ২০০২-২০০৪ সময়কালের কিছু ইমেইল প্রকাশ হয়েছে, যেখানে ঘনিষ্ঠ ও কখনও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
-ABC
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au