মুম্বাইয়ে সালমানের সঙ্গে নয়নতারার মিশন শুরু
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- বলিউডে নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন দুই ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকা-সালমান খান ও দক্ষিণ ভারতের ‘লেডি সুপারস্টার’ নয়নতারা। মুম্বাইয়ে শুরু হয়েছে তাদের…
মেলবোর্ন, ৫ মার্চ:
দিদারুল ইসলাম
২০২২ সাল।
উত্তরার কোলাহলে, ধূসর-গোলাপি পোশাক গায়ে, ফুডপআন্ডার রাইডার হয়ে ছুটে চলি অলিগলি ধরে।সকাল হতে সন্ধ্যা অবধি স্থায়ী হয় ছুটে চলা।
প্রতিদিন অসংখ্য নগদ টাকার লেনদেন হয়, নানা রঙের নোট আসছে-যাচ্ছে। একদিন হঠাৎ চোখে পড়ল একটা পাঁচ টাকার চকচকে নোট।
নোটটা নতুন হলেও,তার চেহারায় ছিল এক অদ্ভুত মাধুর্য। এর আগে কখনো এমন ভালবাসা মাখা হাত ছুঁয়ে দেইনি কাউকে।
অবচেতনে মনে হলো—”এটাকে রেখে দেই, একটু ভালো লাগার মতো কিছু তো থাকুক নিজের সঙ্গে।” সখের সংঙ্গা একেক জনের একেক রকম। শহরের কেউ কেউ সখ করে প্রাণী পোষে, খরচ করে মোটা অংকের টাকা। আবার কেউ জন্মধারিনী মায়ের জন্য একটা শাড়ী কিনতে এক্সট্রা পরিশ্রম করে। শখ করে চকচকে নোটটা রেখে দিলাম মানিব্যাগের এক কোণে।
তারপর দিন চলে, মাস গেলো —বছর ঘুরলো।
হাজার টাকার লেনদেন হলো, মানিব্যাগ কতবার ফাঁকা হয়েছে, তবুও সেই পাঁচ টাকার নোটটা ছিল অটুট—মায়ায় গাঁথা এক আশ্রয় যেন।
যেটা মানিব্যাগের শূন্যতা ঢেকে রাখতো নীরবে।
মাঝেমধ্যে নোটটা বের করে দেখতাম। চোখে-মুখে হাসি ফুটতো। হৃদয় সাজতো বসন্তের সাজে।
“তুই আছিস বলেই বুঝি, আমি একা না”—মনেই বলতাম।
তিন বছর কেটে গেলো এভাবে।
ব্যক্তিগত কারনে চাকরি পাল্টালাম, শহর পাল্টালাম, কিন্তু সেই নোটটি থেকে গেলো একান্ত নিজের মতো।
কিন্তু জীবন তো কখনো কখনো হঠাৎ রূঢ় হয়ে ওঠে।এমন হয়, নদীর আচমকা ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়ে যায় কাঙ্গাল মাঝি।
নতুন চাকরির ব্যস্ততা। চারপাশ গুছানোর চাপ।
তারপর জুলাই আন্দোলন অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, সহকর্মীরা পাড়ি জমালো আপন বাড়ি। ফাঁকা রুমে রয়ে গেলাম একা। সন্ধ্যা হতেই শরীরে প্রবল জ্বর।
এমন একলা পুড়ে যাওয়া জ্বরে মায়ের কথা খুব করে মনে পড়ে। মনে হয় জলপট্টির ভাঁজে মায়ের আলতো চুমু এ সময় ভীষন প্রয়োজন। অসুস্থতায় যে কপালে মায়ের হাত পড়ে না নিঃসন্দেহে সে কপাল অভাগার কপাল।
অথচ নিয়তির নির্মম পরিহাস পেয়ে বসেছে আমায়,পকেট পুরোপুরি শূন্য।
অসুস্থ অস্থির শরীরে, তপ্ত কপাল নিয়ে বসে থাকি।
সম্বল বলতে সেই একটি পাঁচ টাকার নোট। যেটা ভালবাসা দিয়ে আগলে রেখেছিলাম তিনটি বছর।
দ্বিধায় পড়ে গেলাম—
এই নোটের বিনিময়ে কী ওষুধ কিনবো?
নাকি ব্যথা সহ্য করে রাখবো আগের মতোই?
চোখ ভিজে এলো।
শেষমেশ—নিঃস্ব মন নিয়ে, কাঁপা হাতে দোকানে গিয়ে নোটটা দিলাম দোকানদারকে। বিনিময়ে পেলাম একজোড়া নাপা এক্সট্রা।
চোখে জল ছিল না, কিন্তু ভেতরে এক ঝড় বইছিল।
মন বলছিল, “আজ আমি আমার সবচেয়ে শখের জিনিসটাকে হারিয়ে ফেললাম।” জ্বরের তাপে শরীরের চেয়ে মনপুড়ে অধিক। চাদর জড়িয়ে পড়ে রইলাম বিছানায়। অশ্রু গড়িয়ে পড়ে ভিজে যায় বালিশ।
শুনেছি, সুখ কিংবা দুঃখ কখনোই স্থায়ী হতে পছন্দ করে না। ঝড়ের মতো এসে সবকিছু উলটপালট করে শান্ত হয়ে যায়।
তারপর শরীর ভালো হলো, অফিস খুললো, জীবন চলতে থাকলো। মানিব্যাগে এখন অনেক টাকা, লেনদেন হয় হাজারে-হাজারে।
তবুও মনে হয়—এক কোণে আজো শূন্য, নিঃস্ব।
সেই পাঁচ টাকার নোট আর আসেনি কখনো।
আসলে কি নোটটা ফেরেনি, নাকি মন আর কাউকে তার জায়গা নিতে দেয়নি?
রাত গভীর হলে এখনও, একাকিত্বে সেই নোটটা ফিরে আসে—
স্বপ্নে নয়, বাস্তব বেদনায়।
তিন বছরের যত্নে গড়া এক নিঃশব্দ সম্পর্কের অবসান ঘটেছিল। পাঁচ টাকার মেডিসিনের বিনিময়ে।
জীবনে অনেক কিছুই আসে, আবার চলে যায়।
কিন্তু কিছু কিছু জিনিস থাকে, যেগুলা হারিয়ে গেলে পুরো জীবনটাই একটু কম সুন্দর লাগে।
আমার কাছে সেটাই ছিল প্রিয় পাঁচ টাকার চকচকে নোট।
দিদারুল ইসলাম
লেখক: দিদারুল ইসলাম
প্রবাস দর্পণে আপনার লেখা পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করুন।
contact@otnbangla.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au