বাংলাদেশের হাইকোর্ট। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ মার্চ- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সাম্প্রতিক নিয়োগ ও অপসারণকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ এবং তার স্থলে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার এ রিট দায়ের করেন। রিটে অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক (গভর্নরের পক্ষে) এবং নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ এবং নতুন গভর্নর নিয়োগ কেন আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি অপসারণ ও নিয়োগসংক্রান্ত পৃথক গেজেট প্রকাশের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে এবং মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে তার যোগ্যতা, স্বার্থের সংঘাত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে।
রিটের মাধ্যমে এখন পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা আদালতের পর্যালোচনার আওতায় আসছে। হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি বা স্থগিতাদেশ দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।