বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো নিয়ে শাহবাগে উত্তেজনা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে ঢাকার শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে শাহবাগ থানার সামনে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় এক ব্যক্তিকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে রাজধানীর চানখারপুল মোড়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদকে আটক করে পুলিশ। তিনি ঢাবির ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। পুলিশ তাকে আটকের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি সাউন্ড বক্সও জব্দ করে।
এই ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি পদে নির্বাচন করা শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘোষণা দেন। তার আহ্বানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী এবং ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন এবং মাইকে ভাষণ বাজাতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে শাহবাগ থানার দিক থেকে কিছু লোক এসে ভাষণ বন্ধ করার আহ্বান জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে আরেকটি দল এসে ভাষণ বাজাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ভাষণ বন্ধের দাবি জানানো ব্যক্তিরা নিজেদের ‘সাধারণ জনতা’ বলে পরিচয় দেন।
পরবর্তীতে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ভাষণ বাজানোর বিরুদ্ধে স্লোগান ও বক্তব্য দেন। ঘটনাস্থলে ডাকসুর কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও ভাষণ বাজানোর বিরোধিতা করেন।
এর মধ্যে রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ বলে অভিযোগ তুলে মারধর করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ও ডাকসুর কিছু নেতাকর্মী। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে।
ঘটনার সময় শাহবাগ থানার সামনে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।