মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিতব্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ঘিরে সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যেখানে তিনি নিজেই নিজের নিয়োগকর্তা এবং একই সঙ্গে নিজের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হয়েছেন।
সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও দলিল সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাদুঘরটি প্রথমে জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে সেটিকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর একটি অধ্যাদেশ জারি করে প্রায় ৯৬ কোটি টাকার বাজেটে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
অধ্যাদেশের ৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছিল, শিক্ষা, ইতিহাস বা সংস্কৃতি জগতের একজন ‘বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ’ এই জাদুঘরের বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে, ৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক গেজেটে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজেই সেই পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগকে অনেকেই স্বার্থের সংঘাত হিসেবে দেখছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, মন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারী কেউ যদি একই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ গ্রহণ করেন, তবে তা স্পষ্টতই স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে যোগ্য হতে পারেন, কিন্তু নিজের সুবিধা অনুযায়ী যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা দায়িত্বশীল পদে থাকা কারও জন্য শোভন নয়।
জাদুঘরটির নিয়োগ বিধিমালা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রথমে ১০৭টি পদের জন্য একটি নিয়োগ কাঠামোর খসড়া তৈরি করেছিল বলে জানা যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ফারুকী সেই খসড়া প্রত্যাখ্যান করেন। পরে তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বাধীন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ নতুন করে পদ ও নিয়োগ কাঠামো তৈরি করে। সেই কাঠামোয় লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত অনেকটা শিথিল করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের শর্তগুলো বহাল থাকলে ফারুকী নিজে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারতেন। তাকে চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ করে দিতেই যোগ্যতার মানদণ্ড পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আসিফ নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জাদুঘরের ৯৬টি পদের জন্য প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র সাত দিন। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী সাধারণত এমন বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে অন্তত ২১ দিন সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই সময়সীমাকে অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি বলে মন্তব্য করেছেন।
এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত হিসেবে ‘জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করা’ কিংবা ‘নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিশ্বাসী’ হওয়ার মতো আবেগনির্ভর ও অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত সরকারি দাপ্তরিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় না।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষার বিধান থাকলেও সময় স্বল্পতার অজুহাতে কেবল মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, সময় কম থাকলেও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাদ দিলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকিতে পড়ে।
এ ছাড়া নিয়োগ বাছাই কমিটিতে অভিজ্ঞ ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবর্তে তুলনামূলক জুনিয়র ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল বলেও নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
প্রকল্পটিকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। জাদুঘরের জন্য ১৯টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ ‘মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার কার্যাদেশের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের আগে চলচ্চিত্র নির্মাণের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ফারুকী বা তার ঘনিষ্ঠদের যোগাযোগ থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এই প্রকল্পে নিয়োগের জন্য প্রায় ১৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২০০ প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য বাছাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। অভিযোগগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করে তাকে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ ডেইলি টাইমস বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au