মেলবোর্ন, ১০ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টে অবস্থানরত ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে মঙ্গলবার বিকেলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দলটিকে বহনকারী একটি বাসকে থামানোর চেষ্টা করেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী, যার ফলে হোটেলের বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বাকি সদস্যদের পুলিশি নিরাপত্তায় গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। Image: Collected
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোল্ড কোস্টের একটি হোটেলের সামনে কয়েকজন বিক্ষোভকারী বাসটির সামনে অবস্থান নেন। একজন ব্যক্তিকে ছোট একটি সাদা কুকুর কোলে নিয়ে রাস্তার ওপর শুয়ে থাকতে দেখা যায়, যেন বাসটি এগোতে না পারে।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস দলের সিনেটর নিক ম্যাককিম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দলের কিছু সদস্যকে জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্য সন্দেহজনক। আমরা জানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে অন্তত একজনের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।”

অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পাওয়ার পর ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্যের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।
ছবি: Instagram
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক নিশ্চিত করেন যে ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাদের মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে। ওই খেলোয়াড়রা গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন।
তবে দলের বাকি সদস্যদের পুলিশি নিরাপত্তায় বাসে করে গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবরে বলা হয়েছে, দলটির বাকি সদস্যরা প্রথমে সিডনি থেকে মালয়েশিয়া এবং পরে তুরস্ক হয়ে বাসে করে তেহরানে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস দলের সিনেটর নিক ম্যাককিম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দলের কিছু সদস্যকে জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্য সন্দেহজনক। আমরা জানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে অন্তত একজনের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।”
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানি কমিউনিটি এই খেলোয়াড়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যে একটি বড় ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায় রয়েছে। তারা অত্যন্ত উদার এবং সহানুভূতিশীল মানুষ।”
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির কৌশলগত প্রচারক জাকি হায়দারি বলেন, ইরানে ফিরে গেলে ইরানি নারী ফুটবল দলের সদস্যরা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
তিনি বলেন, “তাদের অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষা ও আশ্রয় চাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের সেই সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করা।”
অস্ট্রেলিয়া সরকার যে পাঁচ খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসা দিয়েছে তারা হলেন দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি এবং তার সতীর্থ ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামেজানিজাদেহ এবং মোনা হামৌদি।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানি কমিউনিটি এই খেলোয়াড়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যে একটি বড় ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায় রয়েছে। তারা অত্যন্ত উদার এবং সহানুভূতিশীল মানুষ।”
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে “অপারেশন হারবার” এর আওতায় ইরানি নারী ফুটবল দলকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনায় দলটির কয়েকজন খেলোয়াড় ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে “যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে আখ্যায়িত হন। এর পর থেকেই তাদের দেশে ফিরলে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
– news.com.au