যুদ্ধবিরতি চায় না ইরান: ইরানের স্পিকার
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চায় না ইরান বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তিনি বলেছেন, আগ্রাসনের…
মেলবোর্ন, ১০ মার্চ- ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে বাহরাইনের একটি হোটেলে সফল ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনা ঘটেছে ইরান–ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলার ১১ দিনে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধকে ‘ব্যর্থ’ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “তাদের প্রথম পরিকল্পনা (প্ল্যান এ) ব্যর্থ হয়েছে। তারা অন্য পরিকল্পনা কার্যকর করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সেগুলোও ব্যর্থ হচ্ছে। যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই, তাই তারা আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে অন্তত সাত মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে অন্তত ১,২৩৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো ১৭৫ জন শিশু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মী রয়েছে। সহিংসতা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে তারা ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ইরানের ৫০টির বেশি নৌযান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কারখানা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর খোমেইনে একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যা হাফেজ খোমেইনি স্কুল ও আশেপাশের আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭০ শিশু নিহত হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করতে পারে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর গতিশীল ও শক্তিশালী হামলা চালাবে। ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালিটি এখন উন্মুক্ত আছে, তবে প্রশাসন কৌশলগতভাবে এটি দখল করার পরিকল্পনা করছে।
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে তেলের রপ্তানিতে বিশাল বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘর্ষের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা, ডন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au