দুবাইয়ে ড্রোন হামলায় চারজন আহত, ইরান-হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের তীব্র সংঘর্ষ
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। এই হামলা পাঁচ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ঘটলো। হামলার পর থেকে গালফ অঞ্চলের…
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধকালীন চোটে আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসেফ পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে ইউসেফ পেজেশকিয়ান লিখেছেন, “আমি খবর পেয়েছিলাম যে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে জানিয়েছে, আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ‘রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে তাঁর আঘাতের প্রকৃতি বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
সূত্র জানায়, মোজতবা খামেনি তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার তিন দিন পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তিনি জনসমক্ষে দেখা যাননি। তাঁর স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই এই খবর এসেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি ও দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি আল-জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা কারও জন্যই কোনো সুফল বয়ে আনবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে, বিশেষত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এতে হতাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে এবং এ অঞ্চলের জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় কাতার ‘চরম উদ্বিগ্ন’ উল্লেখ করে আল-খুলাইফি বলেন, “বর্তমানে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, তা দুর্ভাগ্যজনক। আলোচনার টেবিলে ফেরা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের আর কোনো পথ নেই।”
কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন ‘অযৌক্তিক ও জঘন্য’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কাতার সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সংকটের জন্য একটি বৈশ্বিক সমাধান জরুরি।
আল-খুলাইফি আরও বলেন, “কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো এতদিন ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। কিন্তু হামলা অব্যাহত থাকলে দেশগুলোর পক্ষে আর সেই ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। এটি ইরানকে বুঝতে হবে।”
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি কয়েক দিন আগে তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধের অনুরোধ করেছেন। আল-খুলাইফি বলেন, “আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, কিন্তু ইরানিরা তা এখনও বুঝতে পারছেন না।”
সূত্রঃ আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au