ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়ে ঐতিহাসিক রায়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা এক যুবকের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও একাধিক মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ওই যুবকের লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন আদালতের বিচারপতিরা।
স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি পাওয়া ওই যুবকের নাম হরিশ রানা। বর্তমানে তার বয়স ৩২ বছর। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে পড়ে গিয়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি কোমায় আচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার পরও তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে হরিশ রানার পরিবার তার স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়।
পরিবারের আবেদন শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডগুলোর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীর অবস্থা পর্যালোচনা করে আদালতে মতামত দেন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃত্রিমভাবে খাদ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার তেমন কোনো বাস্তব সুফল নেই।
এই মতামতের ভিত্তিতে মামলাটি শুনানি শেষে রায় দেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা এবং কে. ভি. বিশ্বনাথন এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেয়।
রায় ঘোষণার সময় বিচারপতিরা হরিশ রানার বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রশংসা করেন। আদালত মন্তব্য করে, গত ১৩ বছর ধরে তারা সন্তানের পাশে অবিচলভাবে ছিলেন এবং তার সেবা করে গেছেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় মেডিক্যাল বোর্ড উভয়ই মত দিয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃত্রিমভাবে খাবার সরবরাহ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করাই রোগীর জন্য সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত।
এই রায়ের মাধ্যমে ভারতে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিতে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ সুগম হলো বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কোমায় থাকা বা আরোগ্যের সম্ভাবনা নেই এমন রোগীদের চিকিৎসা ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।