নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ বাড়ায় থাইল্যান্ড সরকার নতুন শক্তি সাশ্রয়মূলক নির্দেশনা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নাভিরাকুল সরকারের কর্মকর্তাদের অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সরকারের মুখপাত্র জানান, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিনের নির্দেশে অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা এখন বাসা থেকে কাজ করার সুবিধা পাবেন। তবে হাসপাতাল, নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান বা জনসেবা প্রদানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অফিসে অপ্রয়োজনীয় আলো ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সরকারি দপ্তরে আনুষ্ঠানিক পোশাকের পরিবর্তে হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার সীমিত করা যায়। এর ফলে কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখে জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
থাইল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রী আত্তাপোল রের্কপিবুন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের কাছে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
থাইল্যান্ডের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানায়, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৮ শতাংশ পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ আসে দেশীয় উৎপাদন থেকে এবং প্রায় ১৩ শতাংশ আসে প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার থেকে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশও ইতোমধ্যেই শক্তি সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ড সরকারও চাহিদা কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিদেশি এলএনজি আমদানির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মূল লক্ষ্য।
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর অফিসে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এছাড়া, কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয় বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ টিম গঠন করেছে।
থাইল্যান্ডের সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন করতে শুরু করেছে। সরকারি অফিসের পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে শক্তি সাশ্রয়ের বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় জ্বালানি মজুত দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।
সূত্র: রয়টার্স।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au