ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে সরকার বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তার ভাষায়, যে সরকার ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে, সেই দেশের মাটিতে গিয়ে ফুটবল খেলার মতো পরিস্থিতি এখন নেই।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ওই ঘটনার পরপরই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে এবং সংঘাত দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল বলেন, কয়েক মাসের ব্যবধানে ইরানের ওপর দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এসব সংঘাতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ ও সরকারের জন্য ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটি ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার কথা ভাবা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণ বর্তমানে যুদ্ধ ও নিরাপত্তাজনিত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফুটবল খেলার প্রশ্নই ওঠে না। সরকার এ বিষয়টি বিবেচনা করেই বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে ফুটবল বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচ খেলার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এছাড়া সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলার সূচি ছিল তাদের।
এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে এবং তাদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তার মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয় এবং বিশ্বকাপ এমন একটি বৈশ্বিক আসর যেখানে সব দেশের অংশগ্রহণ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি একইভাবে অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরানের পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাস ও সূচিতেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।