ট্রাকের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের এক শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে পাটগ্রাম উপজেলা-এর মির্জারকোট এলাকায় এ…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- তার একটি পরিচয়, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী। আরেকটি পরিচয়, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ। এর বাইরে এদেশের উত্তরাধিকারের ধারা অনুযায়ী ভবিষ্যতে তার আরও দুটি পরিচয় হতে পারে- আগামীর প্রধানমন্ত্রী অথবা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী জাইমা রহমানের মা। যাকে নিয়ে এসব কথা বলা তিনি হলেন ডা. জুবাইদা রহমান।
মাত্র কয়েকদিন আগে (৮ মার্চ) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি নিশ্চিত করে বলেছিলেন, “বাংলাদেশ সব নারী এবং কন্যার জন্য নিরাপদ হবে।”
তার সেই বক্তব্যের এক সপ্তাহের মধ্যেই বরিশালের বাবুগঞ্জে ভয়ঙ্কর নৃশংসতার মুখে পড়ে ১০ বছরের শিশু কন্যা রাইসা আক্তার। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন বীভৎসতা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই কি ডা. জুবাইদা রহমানের সেই নিরাপদ বাংলাদেশের নমুনা? যেখানে মাত্র ১০ বছরের শিশুকেও রেহাই দেওয়া হয় না?
কী ঘটেছিল রাইসার সঙ্গে
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাইসাদের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে। তার বাবা নজরুল হাওলাদার একজন দিনমজুর। একই গ্রামে বখাটে হিসেবে পরিচিত কিশোর সিফাত সিকদার (১৫)। তার বাবার নাম জালাল সিকদার। এই সিফাত ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাইসাকে পুড়িয়ে হত্যা করে।
রাইসার পরিবারের অভিযোগ, সিফাত কিশোর গ্যাংয়ের একজন সদস্য। প্রায়ই রাইসাকে উত্ত্যক্ত করত সে। গত মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) একা পেয়ে রাইসাকে ধর্ষণেরে চেষ্টা করে। এরপর তার শরীরে আগুন দেয় সিফাত। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার একদিন পর সোমবার রাইসার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে রাইসা যে জবানবন্দি দিয়ে গেছে, তা শুধু ভয়ঙ্করই না, রীতিমত বীভৎস! একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে খারাপ জিনিস কইছে, আমি রাজি হই নাই তাই সিফাত আমার গায়ে আগুন দিছে।’
শরীরের আগুন নিয়ে রাইসা যখন চিৎকার করছিল, তখন তার পাশের বাড়ির বাসিন্দা তসলিম অন্য লোকজন নিয়ে আগুন নিভিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এরপর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে অবস্থার অবনতি হওয়া রাইসাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রাইসার শরীরে থার্ড ডিগ্রি বার্ন হয়েছিল। কাপড় পুড়ে চামড়ার সঙ্গে লেগে যায়।
এখন পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত সিফাতকে গ্রেপ্তার করতে পারনি পুলিশ। বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অগ্নিদগ্ধ হয়ে রাইসার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কি হাস্যকর, পুলিশ আছে লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায়! অথচ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সিফাতকে আরও আগেই গ্রেপ্তার করা উচিৎ ছিল। পুলিশ সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করলে, এমন ঘটনা ঘটতো না। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুলিশ কি শুধু লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় থাকবে? নিজ থেকে কোনো দায়িত্ব পালন করবে না? তাই যদি হয়, তাহলে তাদের কাজ কি?
দু’জনই কন্যা, তবে চিত্র ভিন্ন
সেদিন মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে আরেকটি ঘটনা ঘটে। খালেদা জিয়াকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সন্মাননা প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে ওই সন্মাননা গ্রহণ করেন তার নাতনি জাইমা রহমান।
বাংলাদেশের এক কন্যা হাসি মুখে মুহুর্মুহু করতালিতে পুরস্কার তুলে নিচ্ছেন। আর আরেক কন্যা, মাত্র ১০ বছর বয়স- প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে। যার বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়েছে সেই দেশই!
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au