যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শিক্ষা দিতে চাওয়া’ কে এই আলী লারিজানি
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, লারিজানি নিহত…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায়কে বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রীলঙ্কাকে আরও কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে একই সঙ্গে আশাবাদও ধরে রাখতে হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে কার্যত চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হচ্ছে। শুধু সরকারি অফিস নয়, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়েও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে হাসপাতাল, পুলিশ, অভিবাসনসহ জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বুধবার ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে এমনভাবে যাতে টানা তিন দিন অফিস বন্ধ না থাকে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে না পড়ে।
শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ মূলত জ্বালানি ব্যবহার কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ইতোমধ্যেই দেশে জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। গাড়িচালকদের জন্য ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সপ্তাহে ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সীমা অনেকের কাছেই অপ্রতুল বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও একই ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল সরকার।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোর জন্য এই চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, এশিয়ার আরও বেশ কয়েকটি দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। থাইল্যান্ডে মানুষকে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার ও হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানো যায়। মিয়ানমারে যানবাহন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে বিকল্প দিনে গাড়ি চালানোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে এবং পরিকল্পিত লোডশেডিং চালু করা হয়েছে। ফিলিপাইনসে সরকারি কর্মচারীদের সপ্তাহে এক দিন বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অফিসে যাতায়াত কমে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে নাগরিকদের ঘরে থাকার এবং অপ্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ পরিস্থিতির বাস্তবতা থেকেই নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তাই স্বল্পমেয়াদে চাহিদা কমানোই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের ব্যবস্থা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। চার দিনের কর্মসপ্তাহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও এর প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে যাদের কাজ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে, শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের একটি প্রতিফলন। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে আরও অনেক দেশকেই ভবিষ্যতে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au