মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত CC
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (GCAA)।
মঙ্গলবার সংস্থাটি নিশ্চিত করে যে, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই “সতর্কতামূলক ব্যবস্থা” গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করে। ইউএইতে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের জরুরি আপডেট পেতে সরকারের ক্রাইসিস পোর্টালে নিবন্ধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার ইতোমধ্যে নাগরিকদের ইউএই ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছিল। পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় সরকারি ওয়েবসাইট ‘স্মার্টট্রাভেলার’ ভ্রমণকারীদের সতর্ক করে বলেছে—“খুব দেরি হওয়ার আগে দেশ ত্যাগ করুন।” যারা এখনো ইউএইতে অবস্থান করছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যদি নিরাপদে বিমানবন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
তবে সর্বশেষ আপডেটে বলা হয়েছে, আকাশসীমা খোলা থাকা সাপেক্ষে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল করবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ছবি: smartraveller-সংগৃহীত
ইউএইতে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের জরুরি আপডেট পেতে সরকারের ক্রাইসিস পোর্টালে নিবন্ধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন এমিরেটসও দুবাইগামী ও দুবাই থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে।
দুবাই ইউরোপগামী অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হওয়ায় অনেক যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশেই “ভ্রমণ না করার” সতর্কতা জারি রয়েছে। সৌদি আরব ও ওমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতার মাত্রা ৩ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে পাঁচ হাজারের বেশি অস্ট্রেলিয়ান দেশ ছেড়েছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান অবস্থান করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার ইউএইতে রয়েছেন।