আরিচা ঘাটে শতবর্ষের ঐতিহ্যের মহা বারুণী স্নান, পূণ্যার্থীদের ঢল
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মহা বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোরের প্রথম আলো থেকে ঘাট এলাকায়…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, লারিজানি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ফলে তথ্যটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এই দাবির মধ্যেই আবার আলোচনায় উঠে এসেছে লারিজানির রাজনৈতিক ভূমিকা, প্রভাব এবং সাম্প্রতিক অবস্থান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। সাধারণত শান্ত ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত লারিজানি পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য ও অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে লারিজানি কঠোর ও আগ্রাসী অবস্থান নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেন এবং বলেন, ইরানি জাতির ওপর আঘাতের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি একই ধরনের বার্তা দিয়ে বলেন, ইরান এমন শিক্ষা দেবে যা প্রতিপক্ষ কোনোদিন ভুলতে পারবে না।
লারিজানি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের কৌশলগত ফাঁদে পা দিয়েছেন। বর্তমানে ইরান যে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে লারিজানি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর পর সম্ভাব্য নেতৃত্ব কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
১৯৫৮ সালের ৩ জুন ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া লারিজানি এক প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা ছিলেন খ্যাতনামা ধর্মীয় পণ্ডিত এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও ইরানের শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পরিবারের প্রভাব এতটাই গভীর যে একসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ বলে উল্লেখ করেছিল।

ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি। ছবিঃ সংগৃহীত
শিক্ষাজীবনে লারিজানি ছিলেন ব্যতিক্রমী। তিনি গণিত ও কম্পিউটার প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করার পর দর্শনে উচ্চশিক্ষা নেন এবং জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের ওপর গবেষণা করেন। তার এই একাডেমিক পটভূমি তাকে অন্য অনেক ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতার তুলনায় আলাদা পরিচিতি দেয়।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে পথচলা শুরু করেন। পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান ছিলেন। এরপর ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আলোচনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি অনুমোদনে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। যদিও রাজনৈতিক জীবনে সবসময় তিনি নির্বিঘ্ন ছিলেন না। একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
২০২৫ সালে তিনি আবার সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে ফেরেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি বাতিলসহ একাধিক সিদ্ধান্ত তার এই কঠোর মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়।
তবে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি তাকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়, যিনি প্রয়োজন হলে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারেন। সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর সেই কূটনৈতিক সম্ভাবনা ভেঙে পড়ে।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে লারিজানি ইরানের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের নেতৃত্ব নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নেতাদের হত্যা করে ইরানকে অস্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত যেকোনো সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এমন এক প্রেক্ষাপটে তার নিহত হওয়ার দাবি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুরো অঞ্চল এখন এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সূত্রঃ আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au