অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ান নেশনের উত্থান, বড় দলগুলোর প্রতি আস্থা কমছে কেন
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ। ‘রিজলভ’ জরিপের সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক দল—লেবার…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মহা বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোরের প্রথম আলো থেকে ঘাট এলাকায় হাজারো পূণ্যার্থী সমাগম ঘটান। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ যমুনা নদীর জলে স্নান করে পাপমোচনের বিশ্বাসকে ধারণ করেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলে নিয়মিতভাবে মহা বারুণী স্নান পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশ নেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, বিশেষ করে কলকাতা থেকেও অনেক ভক্ত এই স্নানে অংশ নিতে আসেন।
বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে আরিচা ঘাট সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে পাঁচ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণত মেলা তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত গড়ায়। এবার ঈদকে সামনে রেখে মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। হস্তশিল্প, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জার সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খৈ, বাতাসা ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের সমাহার রয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ নানা আয়োজন মেলায় স্থাপন করা হয়েছে।
তেওতা জমিদার বাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী জানান, মহা বারুণী স্নান প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যমুনার জলে স্নান করলে মানুষের পাপ মোচন হয়। গঙ্গা যেমন সকলের পাপ ধারণ করতে সক্ষম, তেমনি গঙ্গার রূপিনী বারুণী মহাদেবীর কৃপায় ভক্তরা পাপ থেকে মুক্তি লাভ করেন। স্নানের শেষে ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে মিলনমেলার আবহ তৈরি হয়।
শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানিয়েছেন, বারুণী স্নানে অংশগ্রহণকারী পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au