মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কার পর বিকল্প পথ খুঁজে পেয়েছে ইরাক। বুধবার দেশটি ঘোষণা দিয়েছে, তুরস্কের সেহান বন্দর ব্যবহার করে সীমিত আকারে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত নর্থ অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, কিরকুক অঞ্চলের তেল সেহান বন্দরে পাঠাতে সারলো পাম্পিং স্টেশন চালু করা হয়েছে, যা এই পরিমাণ তেল পরিবহনে সক্ষম।
ওপেক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইরাকের অর্থনীতিতে তেল খাতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশটির মোট বাজেট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল দক্ষিণাঞ্চলের বসরা অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে রপ্তানি করত। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় সেই সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এ অবস্থায় বিকল্প রুট হিসেবে তুরস্কের সেহান বন্দরের পথকে বেছে নেয় বাগদাদ। কিরকুকের তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন করে তা সেহান বন্দরে পৌঁছানো হচ্ছে। এই পাইপলাইনটি স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের ভেতর দিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইরাক সরকার ও কুর্দি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টায় সারলো তেল স্টেশন চালু করা হয়। এর মাধ্যমে কুর্দিস্তান অঞ্চলের পাইপলাইন ব্যবহার করে তেল রপ্তানি সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে এই বিকল্প রপ্তানি পথ ইরাকের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমান সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় দেশটির সামগ্রিক রপ্তানিতে এখনও চাপ রয়ে গেছে।
সুত্রঃএএফপি