সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…
মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কাতার-এর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি-তে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত দু’বার এই শিল্পনগরীতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। এই হামলার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্র হিসেবে রাস লাফান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতারএনার্জি-এর পরিচালনায় থাকা এই স্থাপনাটি থেকে বিশ্বে মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র-এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
হামলার আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। নতুন করে স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এই গ্যাসক্ষেত্র পুরোপুরি সচল হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ তাদের এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতারের ওপর নির্ভরশীল এবং বিকল্প মজুত তুলনামূলক কম। ফলে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এসব দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
এলএনজি ছাড়াও রাস লাফান থেকে কৃষি খাতে ব্যবহৃত ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া সার উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি মাইক্রোচিপ তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হিলিয়াম গ্যাসেরও বড় অংশ এখান থেকে সরবরাহ হয়, যা বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ভৌগোলিকভাবে, কাতারের রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই শিল্পনগরীটি পারস্য উপসাগরের বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত। কাতার ও ইরান যৌথভাবে এই গ্যাসক্ষেত্রের মালিক—যেখানে কাতারের অংশ ‘নর্থ ডোম’ এবং ইরানের অংশ ‘সাউথ পার্স’ নামে পরিচিত।
সব মিলিয়ে, কাতারের এই গ্যাস স্থাপনায় হামলা শুধু একটি আঞ্চলিক ঘটনা নয়, বরং তা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au