নিরাপদ পানি বঞ্চিত বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ, ঝুঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য বড় ধরনের…
মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রায় ১৩ লাখের বেশি ভোটার অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সারা দেশের দৃষ্টি এখন এই নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনের শুরুতেই ওয়ান ন্যাশন তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি বড় দুই দলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লিবারেরল পার্টি এর প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে লেবার পার্টি বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষক কেসি ব্রিগস জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য খুবই প্রাথমিক হলেও ওয়ান নেশনের পক্ষে জনসমর্থনের যে গতি তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব বলে মনে হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব তথ্য এখনো চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিনিধিত্ব করে না।
এবারের নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আগাম ভোটদানের হার ছিল রেকর্ড পরিমাণ এবং প্রার্থীর সংখ্যাও ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এতে করে ভোট গণনা প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীরগতির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে লেবার পার্টির সমর্থকেরা অ্যাডিলেডের একটি অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছেন। সেখানে ফেডারেল স্বাস্থ্য মন্ত্রী মার্ক বাটলার উপস্থিত হয়েছেন এবং দলীয় প্রার্থীদের আগমনের অপেক্ষা করছেন সমর্থকেরা। একই অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের রাজনীতিক সুসান ক্লোজও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যিনি এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন অ্যাডিলেডে দলের সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। সমর্থকেরা উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাক পরে সেখানে জড়ো হচ্ছেন। দলটি উচ্চকক্ষের একটি আসনে জয় পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী এবং নিম্নকক্ষেও একাধিক আসনে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে।
ভোট গণনা শুরু হলেও শুরুতে কিছুটা বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, এখনো অনেক কেন্দ্র থেকে ভোটের ফল প্রকাশ শুরু হয়নি। প্রায় ৬০০টি ভোটকেন্দ্র এবং ৫০টি আগাম ভোটকেন্দ্রে গণনা চলছে, যা সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
লিবারেল পার্টির সাবেক নেতা ভিনসেন্ট টারজিয়া স্বীকার করেছেন, দলটি বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, দলীয় ভাবমূর্তি নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির পক্ষ থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী কিয়াম মাহের জানিয়েছেন, তাদের শিবিরে ‘সতর্ক আশাবাদ’ কাজ করছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমে উঠেছে এবং চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এছাড়া সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা ডেভিড স্পিয়ার্স স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের আসন পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আশাবাদী। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এটি একটি কঠিন লড়াই এবং ফলাফল অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক ফলাফলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিললেও চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরও সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au