হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকির জবাবে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ’ বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি ধারাবাহিক একাধিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক ধাক্কা ও সাইবার হামলাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হলেও, প্রায় অর্ধেক অস্ট্রেলিয়ান মনে করছেন, বিদেশি সামরিক হামলাও দেশটির ভেতরে ঘটতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজ পরিচালিত এই গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, সম্ভাব্য এসব সংকট মোকাবিলায় দেশটি যথেষ্ট প্রস্তুত নয় বলেও মনে করছেন নাগরিকরা। জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত ধাক্কার মুখে পড়বে অস্ট্রেলিয়া এবং এসব মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ২০ হাজারের বেশি মানুষের মতামতে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, সহিংস অস্থিরতা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের মতো ঝুঁকিগুলোকে তিন-চতুর্থাংশের বেশি উত্তরদাতা সম্ভাব্য বলে মনে করেন। জরিপটি পরিচালিত হয় সিডনির বন্ডি এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার আগে ও পরে, তবে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগেই।
জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটি কোনো না কোনো সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ৪৫ শতাংশের ধারণা, বিদেশি বাহিনীর সরাসরি হামলার শিকার হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ড। এছাড়া দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, দেশটি নজিরবিহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নতুন কোনো বৈশ্বিক মহামারির সম্মুখীন হতে পারে।
গবেষণায় নির্দিষ্ট কোনো দেশকে সম্ভাব্য হুমকির উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি এবং অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেও এমন কোনো দেশের নাম জানতে চাওয়া হয়নি।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজের প্রধান রোরি মেডক্যালফ বলেন, এই ফলাফল অস্ট্রেলিয়ান সমাজের গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে সামনে আসছে—এ বিষয়টি জনগণ বাস্তবসম্মতভাবে উপলব্ধি করছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বিদেশি সংঘাতের কারণে অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সংহতিতে প্রভাব পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতি সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে—দেশটি কতটা প্রস্তুত এবং একসঙ্গে একাধিক সংকট মোকাবিলায় কতটা সক্ষম।
জরিপে ১৫ ধরনের সম্ভাব্য হুমকি তুলে ধরা হয়েছিল, যার মধ্যে বিদেশি সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক সংকট এবং বৈশ্বিক মহামারিও ছিল। তবে সব ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণকারীদের পাঁচজনের মধ্যে একজনেরও কম মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া এসব মোকাবিলায় পুরোপুরি বা খুব ভালোভাবে প্রস্তুত।
রোরি মেডক্যালফের মতে, এই বার্তাটি সরকারের জন্য উদ্বেগজনক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, জনগণ এখন জাতীয় প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং বাস্তবসম্মত ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়াতে এবং জনগণের আস্থা তৈরির জন্য এমন আলোচনা জরুরি।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বার্তা ও তথ্যের ওপর জনগণের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান মনে করেন, দেশের সামনে থাকা ঝুঁকিগুলো নিয়ে আরও বেশি তথ্য ও স্বচ্ছ যোগাযোগ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করলে তা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি আস্থা তুলনামূলক বেশি হলেও রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমের ওপর আস্থা কম বলে মনে করেন অনেকেই। তাদের ধারণা, কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক বা অন্য স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রোরি মেডক্যালফ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পরিষ্কার, সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত যাতে তা জনগণকে সচেতন করে, আতঙ্কিত না করে।
এদিকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগও জরিপ চলাকালে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে যেখানে অর্ধেকের কিছু বেশি মানুষ সন্ত্রাসবাদকে বড় হুমকি হিসেবে দেখতেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছায়।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au