অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্বিতীয়বারের মতো জরুরি ন্যাশনাল ক্যাবিনেট বৈঠক আহ্বান করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম ও সরবরাহ সংকট দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৪৭০টি সার্ভিস স্টেশনে অন্তত এক ধরনের জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, যদিও আগের দিনের তুলনায় এ সংখ্যা সামান্য কম। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবায়।
আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে রাজ্য ও টেরিটরির নেতারা অংশ নেবেন। জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করাই হবে বৈঠকের মূল লক্ষ্য। পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “জাতীয়ভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এর আগে জ্বালানি সরবরাহ ও সরবরাহ শৃঙ্খল তদারকির জন্য ‘ফুয়েল সাপ্লাই টাস্কফোর্স’-এর সমন্বয়ক হিসেবে অ্যানথিয়া হ্যারিসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে, তবে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার জন্য নির্ধারিত ছয়টি বাতিল হওয়া তেলবাহী জাহাজের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত তিনটি ট্যাংকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স বলেছেন, তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস এখন অনেকটাই রক্ষণশীল মনে হচ্ছে। তিনি আরও জটিল পরিস্থিতির সম্ভাবনা যাচাই করতে ট্রেজারিকে নতুন করে বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সরবরাহ ঘাটতির চেয়ে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লেবার সরকার।