জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে ভিডিও পোস্ট
মেলবোর্ন, ২৮ মার্চ- শরীয়তপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে দুর্বৃত্তরা এই আগুন লাগায় বলে জানা গেছে।…
মেলবোর্ন, ২৮ মার্চ- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে এবং মব সৃষ্টি করে বিধান রায় নামের এক হিন্দু তরুণকে মারধর ও হেনস্তার পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ‘তৌহিদী জনতা’।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ বিধান রায়কে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
তবে ধর্ম অবমাননার এই অভিযোগ ‘মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করেছেন বিধান রায় ও তার পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, বিধান রায় উপজেলার নেকমরদ পারকুন্ডা গ্রামের মলিন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ অভিযোগ তোলেন- তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছেন।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ‘তৌহিদী জনতা’ বিধান রায়ের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে মারধর ও হেনস্তা করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত বিধান রায়কে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিধান রায় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে শুক্রবার সকালে দুটি পোস্ট (একটি ভিডিও বার্তা) দিয়ে জানান, এর সঙ্গে তিনি জড়িত নন। কে বা কারা তার নামে ফেক আইডি খুলে তাকে ফাঁসিয়েছে।
‘বিধান রায়’ নামের আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি বিধান রায় বলছি, আমার ছবি এবং নাম ব্যবহার করে আমার ব্যক্তিগত শত্রু আমার ক্ষতি সাধন করার জন্য আমার নামে ফেক আইডি খুলে আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি পোস্টের স্ক্রিনশট ছাড়া হয়েছে যা আমি পোস্ট করিনি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে বিধার রায়ের ফেসবুক পোস্ট
তাকে ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়ে বিধান রায় আরও লিখেছেন, “আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আমাকে ভুল না বুঝার জন্য। আমি স্বজ্ঞানে বলছি, এমন কোন পোস্ট আমার আইডি থেকে করা হয়নি।”
এই পোস্টের কিছু সময় আগে তার আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তাও পোস্ট করেন তিনি। সেখানেও কটূক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন বিধান রায়।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তার ছেলে এমন কাজ কখনও করতে পারে না। কে বা কারা তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের শাস্তি চাই।
এমন ঘটনার পর ওই এলাকার হিন্দুরা আতঙ্কে রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিধান রায়ের একজন প্রতিবেশী ওটিএন বাংলাকে বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে আরেকটি হিন্দু ছেলে আটক করে পুলিশে দেওয়া হল। এখন আমরা আতঙ্কে আছি, কখন না আবার আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে।’

বিধান রায়কে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
আরেকজন হিন্দু ব্যক্তি ওটিএন বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের বিতারিত করার যে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে, এই ঘটনা তারই অংশ। এটা খুব সহজ পদ্ধতি, যা দিয়ে হিন্দুদের আইনিভাবেই হয়রানী-নির্যাতন করা যায়। এর কোনো তদন্তও হয় না, কোনো বিচারও নাই।’
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
“এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au