পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিল ইরান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এক প্রভাবশালী রাজনীতিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসার সময় এখন চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক হামলার মধ্যেই এমন মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের ওই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, দেশটির ওপর সামরিক চাপ বাড়তে থাকায় ভবিষ্যৎ কৌশল হিসেবে পারমাণবিক চুক্তি ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নিজেদের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে ইরান আগামীকাল ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার ‘উপহার’ হিসেবে পাঠাবে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে। তিনি এই প্রণালীকে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের নতুন করে বিমান হামলার ফলে রাজধানী তেহরানে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় একাধিক স্থানে বিমান হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয় বলে জানা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং যদি মার্কিন সেনারা স্থলপথে প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানা হবে। তার ভাষায়, মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ নামানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান ইঙ্গিত করছে যে সংঘাত কেবল আকাশ হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থলযুদ্ধের দিকেও গড়াতে পারে। এতে করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত সংঘাত কমানোর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন হুমকি, পাল্টা হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত, সামরিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।