‘জুলাই আদেশ’ সংবিধানের ওপর প্রতারণা: আইনমন্ত্রী
মেলবোর্ন, ১ এপ্রিল- ‘জুলাই আদেশ’কে আইনি ভিত্তিহীন এবং সংবিধানের ওপর প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটি মূলত একটি ‘কালারেবল লেজিসলেশন’, যার মাধ্যমে সংবিধানে…
মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ- চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ঋণের পরিমাণ পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করে ফেলেছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (২৯ মার্চ) রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে একই সময়ে ঋণ বেড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়াকে অর্থনীতিবিদরা অস্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ ধরনের ঋণ বৃদ্ধিকে তারা আর্থিক ব্যবস্থাপনার চাপের একটি বড় ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন।
অন্যদিকে, ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধির বিপরীতে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার ঋণ নিয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন সরকারি বিল ও বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে এ খাতে সরকারের প্রত্যাশিত অর্থ সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থবছরের অর্ধেক সময়েই মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের গতি তুলনামূলক ধীর হলেও সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে বিপুল পরিমাণ ব্যাংকঋণ নেওয়া হচ্ছে। এতে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বর্তমানে স্থবির থাকায় ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারি ঋণের চাপ আপাতত সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংকগুলো সরকারি ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থাকায় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তাই রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প অর্থায়ন উৎস খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au