দুবাইয়ের চার্চগুলোতে প্রার্থনা সভা বাতিল ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- দুবাইয়ের ক্যাথলিক চার্চগুলো এই ইস্টার উইকএন্ডে তাদের সব গণপ্রার্থনা কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেছে। চার্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি বিশেষ সরকারি নির্দেশনার পর নেওয়া…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- বাংলাদেশে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সামরিক সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
জানা গেছে, ওই সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারি থাকাকালে শত শত মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অনেকের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিলেও, সংশ্লিষ্ট মহল জোর দিচ্ছে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর।
সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনায় জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ। ২০২৪ সালে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেই সরকারের পতনের পর এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।
গত ২৩ মার্চ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবপাচার এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতারণাসহ ১১টি অভিযোগে মামলা হয়েছে। এরপর ২৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মামুন খালেদ, যিনি একসময় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩০ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় আরেক সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ আফজাল নাসেরকে, যিনি ২০২৪ সালের বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন কর্মকর্তাই সামরিক সমর্থিত সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও ওই সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয় লাভ করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা সীমিত করা, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, নজরদারি ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা জরুরি।
একই সঙ্গে অতীতের অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল নিশ্চিত করা সম্ভব যে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ভবিষ্যতে আর ঘটবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au