মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বিমুখী চাপে আবারও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। চার বছর আগের ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দেশটি এখন কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা ডিসানায়েকে জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করেছেন। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং বিদ্যুতের খরচ সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের স্মৃতি এখনো তাজা। সে সময় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে দেশটি দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়। ওই সংকটের জেরে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে ‘আরাগালায়া’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ফ্রন্টলাইন সোশ্যালিস্ট পার্টি। দলটির পলিটব্যুরো সদস্য দুমিন্দা নাগামুয়া বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
রাজধানী কলম্বো-এর পেট্টাহ নাইট মার্কেটের বিক্রেতা ওয়াসান্থা জয়লাথ জানান, নতুন সরকারের কাছে ভালো সময়ের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী প্রিয়ান্থা সুধারশানা সিলভা মনে করেন, সংকট সত্ত্বেও এখন বিক্ষোভের চেয়ে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ।
মানবাধিকার আইনজীবী ভাবানী ফনসেকা বলেন, মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যস্ত থাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ এখন কম দেখা যাচ্ছে। তবে জরুরি আইনের আওতায় গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের আশঙ্কা রয়েছে, যা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে গত বছরের শেষ দিকে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘দিত্বাহ’ দেশটিকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। এতে ৬৪১ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৪.১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার ৫০০ বিলিয়ন রুপি পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ২০৬ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা পেয়েছে দেশটি। বর্তমানে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে, চার বছরের ২.৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি আবারও চাপে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের জন্য আগামী মাসগুলো হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।