বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি

চীনের পিছিয়ে পড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ

  • 12:21 pm - April 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৬০ বার
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বাংলাদেশ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৬ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হলেও এর পেছনের চিত্র পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, তবে একই সময়ে দেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। ফলে অবস্থান উন্নতির এই খবরের মধ্যেই রয়েছে উদ্বেগের ইঙ্গিত।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ সামগ্রিক বাজারই সংকুচিত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এবং তাদের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি করে দ্বিতীয় স্থানে উঠলেও গত বছরের ১৫০ কোটি ডলারের তুলনায় তা কমেছে। ফলে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়নি, বরং অন্য দেশের বড় পতনের কারণে অবস্থান উন্নত হয়েছে।

বিশেষ করে চীনের রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটির রপ্তানি নেমে আসে ১১৭ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের ২৭৭ কোটি ডলার থেকে প্রায় ৫৭ শতাংশ কম। এই পতনই মূলত বাংলাদেশের জন্য জায়গা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলারের রপ্তানি করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং তাদের রপ্তানি বেড়েছে। ভারত ৭২ কোটি ডলারের রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে থাকলেও তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই এই পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন দেশের ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বদলে যায়। বাংলাদেশ শুরুতে উচ্চ শুল্কের মুখে পড়লেও পরে তা কমিয়ে আনা হয়, যা কিছুটা সুবিধা তৈরি করে।

তবে শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিলেও সেই সুবিধা স্থায়ী হয়নি। অর্ডার বাড়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি, ফলে রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি আসেনি।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হলেও তা মূলত প্রতিযোগী দেশের দুর্বলতার ফল। টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উৎপাদন সক্ষমতা, বাজার বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…

যুক্তরাজ্যে ফিরলেও রাজপরিবারের দায়িত্বে ফিরছেন না হ্যারি-মেগান

যুক্তরাজ্যে প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেলের ফেরার খবরে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই হ্যারি ও মেগানের…

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

গণপতি পরিবারের ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ গেল কোথায়? উদ্ধার সম্ভব নয় কেন বলছে পুলিশ?

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার…

ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au