অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- তামিল টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুভাষিনীর মরদেহ চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাই এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘটনাটি ঘটে।…
মেলবোর্ন, ৬ এপ্রিল- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সেখানে থাকা ৩০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু মুসলমানদের ভোট নিয়ে ততই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। যদিও এই ভোটের বেশিরভাগ অংশই পেয়ে থাকে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরও বিজেপি বছরের পর বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ভোট ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে তারা কতটা সফল- এখন পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কোনো ইতিবাচক প্রমাণ দেখা যায়নি।
তারপরও হাল ছাড়তে নারাজ গেরুয়া শিবির। সংখ্যালঘুদের মন পেতে একের পর এক উদ্যোগ নিয়েই যাচ্ছে দলটি। কোথায় সমস্যা- তা গভীরভাবে খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে। আর তা করতে গিয়ে দলের নীতিনির্ধাকরা দেখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের কাছে পৌঁছাতে বিজেপি তাদের সুপরিচিত স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ ব্যবহার সীমিত করে ‘জয় মা কালী’ এবং ‘জয় মা দুর্গা’ স্লোগান দেওয়া শুরু করে। বাঙালি হিন্দুরা তা সহজে গ্রহণ করলেও বিপত্তি বাধে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এমন জটিল পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বিজেপি নেতৃত্বকে জানায়, ‘জয় মা কালী’ এবং ‘জয় মা দুর্গা’ স্লোগানের চেয়ে তাদের জন্য ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানই উপযুক্ত। এতে রামকে সততা ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে খুব সহজেই নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তুলে ধরতে পারেন। এরপর হয়েছেও তাই। ধীরে ধীরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান জনপ্রিয় হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে।
গত বছরের জুলাইয়ের শুরুতে কলকাতায় সায়েন্স সিটি ময়দানে ‘রাজ্যাভিষেক’ হয়েছিল রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। মঞ্চের এলইডি-দেওয়ালে বার বার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল কালীঘাটের বিগ্রহের ছবি। ‘জয় শ্রীরাম’ শিবিরে ‘কালী’র বন্দনা নতুন রাজনৈতিক কৌশল কি না, তা নিয়ে সে দিনই জল্পনা শুরু হয়েছিল। দু’সপ্তাহ পরে দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগের দিন জল্পনার অবসান ঘটেছিল।
নরেন্দ্র মোদির সেই সভায় যোগদানের আহ্বান জানিয়ে যে ছাপানো চিঠি বিলি করা হচ্ছিল বিজেপির পক্ষ থেকে, তার শুরুতেই লেখা হয়েছিল ‘জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা’। স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, শুধু হিন্দুত্বে নয়, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘বাঙালি হিন্দুত্বে’ শান দিতে শুরু করেছে বিজেপি। তারপর থেকে নানা মঞ্চে, নানা কর্মসূচিতে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বার বার ‘জয় মা কালী’ স্লোগান তুলেছেন।
কিন্তু পরে সংগঠন বুঝতে রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা দলের এই নতুন কৌশল রপ্ত করতে পারেনি। কেননা, সংখ্যালঘু মোর্চার পক্ষে সরাসরি ‘জয় মা কালী’ বা ‘জয় মা দুর্গা’য় অভ্যস্ত হওয়া কঠিন। বরং ‘জয় শ্রীরাম’ তাঁদের কাছে সহজ। আর কেন তা সহজ- ইতিমধ্যেই তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেন।
গত মার্চের শেষ সপ্তাহে তিনি সংগঠনের বেশ কয়েকজন পদাধিকারীকে নিয়ে রাজ্য বিজেপির বিধাননগর দফতরে একটি বৈঠক করেন। ‘জয় শ্রীরাম’ বলায় মুসলিমদের কেন আপত্তি থাকা উচিত নয়, তা সেই বৈঠকে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

মিছিলে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান
আলি হোসেন বলেছেন, ‘জয় শ্রীরাম কোনও ধর্মীয় স্লোগান নয়। এটি সুশাসন এবং সুশাসকের পক্ষে স্লোগান। তাই মুসলিমদের জয় শ্রীরাম বলায় কোনও বাধা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে হিন্দুরা উপাস্য হিসাবে দেখেন, সে কথা ঠিকই। কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতিতে সুশাসন এবং সুশাসকের যে ধারণা, তা রামরাজ্য তথা রামের নামের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত। তাই আমরা যখন রামের নামে জয়ধ্বনি করি, তখন আসলে একজন সুশাসক, একজন নিষ্ঠাবান রাজনীতিকের নামে জয়ধ্বনি করি।’’
তার মতে ‘রামচন্দ্র শুধু হিন্দুদের নন। যে যুগে রামচন্দ্র ছিলেন, সে যুগে এ দেশে কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম, কেউ খ্রিস্টান ছিলেন না। সকলে একই ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তাই এ দেশে আমাদের সকলের পূর্বপুরুষ রাম। তাঁর নামে জয়ধ্বনি দিতে আমাদের কারও সমস্যা থাকার কথা নয়।’
বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার নেতারা তাই এখন মনে করেন, ‘জয় শ্রীরাম’ ধর্মীয় স্লোগান নয়, মুসলিমেরও যে এই স্লোগানে গলা মেলাতে বাধা নেই। এই স্লোগানকে ‘অপশক্তির বিনাশ’- এর প্রতীক হিসাবেই দেখতে চান মুসলমানরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au