মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানরা যখন ইস্টার উদযাপন করছিলেন, ঠিক তখনই নাইজেরিয়ার বেনুয়ে রাজ্যের সেন্ট ইগনেশিয়াস ক্যাথলিক চার্চে এবং আরও কয়েকটি রাজ্যের বিভিন্ন গির্জা ও উপাসনালয়ে বন্দুকধারীদের একের পর এক নৃশংস হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত ৬০ জন খ্রিস্টান নিহত হয়েছে, অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে, এবং অনেককে অপহরণ করা হয়েছে। হামলার পর চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
মিশনারি জাড সলের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছে, যিনি ‘ইকুইপিং দ্য পারসিকিউটেড’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেছেন, “এটি শুধু একাধিক হামলা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যার অংশ। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে এটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই হামলায় সরকারেরও সরাসরি বা আংশিক সহায়তার প্রমাণ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলাকারীরা আঞ্চলিকভাবে সুসংগঠিত, এবং কয়েকটি এলাকা থেকে তারা অপহরণকৃত ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই এলাকায় অভিযান শুরু করেছে, তবে হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
এই নৃশংস ঘটনার পর নাইজেরিয়ার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশটির সরকারের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাড সল বলেন, “যে কোনো পরিকল্পিত গণহত্যার মতোই, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য খ্রিস্টানদের ভয় দেখানো এবং তাদের সম্প্রদায়কে দুর্বল করা।” তিনি বলেন, “এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা জরুরি।”
এই ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং কট্টরপন্থী হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় গির্জা ও উপাসনালয়গুলো অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।