লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে ইরান
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করেছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা…
মেলবোর্ন, ৮ এপ্রিল: অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ এর ৬ এপ্রিলের প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত অ্যান্ড্রু বোল্ট-এর এক মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
লেখকের মতে, সিডনির বন্ডাই এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মাত্র চার মাসের মধ্যেই এন্থনি আলবানিজ সরকারের সরকারের পক্ষ থেকে এমন দুইজন মুসলিম বক্তাকে ভিসা দেওয়া হয়েছে, যারা ইহুদিবিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, একজনকে ভিসা দেওয়া ভুল হতে পারে, কিন্তু দু’জন হলে তা আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতার ইঙ্গিত।
অনলাইনে থাকা ভিডিওগুলোতে তাকে ইহুদিদের “সবচেয়ে প্রতারণাপূর্ণ মানুষ” বলতে শোনা যায় এবং মুসলমানদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়—“আমাদের শুধু লোহিত সাগরে প্রস্রাব করতে হবে, তাহলেই তাদের ভাসিয়ে দেওয়া যাবে।” লেখক প্রশ্ন তুলেছেন—এমন স্পষ্ট তথ্য কীভাবে সাধারণ ভিসা যাচাই প্রক্রিয়াতেও ধরা পড়ল না?
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এর দপ্তর পরে বাংলাদেশি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে বহিষ্কার করে, কারণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি ইহুদিদের “বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং অ্যাডলফ হিটলারকে ইহুদিদের “ঐশ্বরিক শাস্তি” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার আরেক বাংলাদেশি বক্তা শায়খ আহমদুল্লাহকেও ভিসা দিয়েছে, যার ফেসবুকে প্রায় ৭০ লাখ অনুসারী রয়েছে এবং যিনি ইহুদিদের “নিকৃষ্ট” ও “বিশ্বের সব অস্থিরতার নেপথ্যের নিয়ন্ত্রক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক অনলাইন বক্তব্যে তিনি বলেন, “একজন আলেম বলেছেন—দুটি মাছ যদি লড়াই করে, তবুও বুঝতে হবে এর পেছনে ইহুদি ষড়যন্ত্র রয়েছে।”
লেখকের ভাষায়, সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এই দুই বক্তাই একই বক্তৃতা সফরের অংশ হিসেবে ইসলামিক প্রাকটিস এন্ড দাওয়াহ সার্কেল (IPDC) এর আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। অথচ একজন সম্পর্কে সতর্কতা পাওয়ার পরও সরকার অন্যজনকে যাচাই করেনি।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, আজহারী কোনো অচেনা ব্যক্তি নন; তার প্রায় এক কোটি অনুসারী রয়েছে এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশে ও ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে তাকে ‘হেইট প্রিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
অনলাইনে থাকা ভিডিওগুলোতে তাকে ইহুদিদের “সবচেয়ে প্রতারণাপূর্ণ মানুষ” বলতে শোনা যায় এবং মুসলমানদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়—“আমাদের শুধু লোহিত সাগরে প্রস্রাব করতে হবে, তাহলেই তাদের ভাসিয়ে দেওয়া যাবে।” লেখক প্রশ্ন তুলেছেন—এমন স্পষ্ট তথ্য কীভাবে সাধারণ ভিসা যাচাই প্রক্রিয়াতেও ধরা পড়ল না?
একইভাবে, শায়খ আহমদুল্লাহর অনলাইন ভিডিওতেও তাকে বলতে শোনা যায়—“কোরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর তুলনায় ইহুদিদের প্রতি বেশি ঘৃণা রয়েছে।” তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এসব বিষয় কীভাবে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল?
লেখক আরও দাবি করেন, সমস্যাটি হয়তো আরও গভীরে—ধর্মীয় গ্রন্থের কিছু ব্যাখ্যায় ইহুদিদের “বানর ও শূকর”, “দুর্নীতিগ্রস্ত”, “জীবনের প্রতি অত্যন্ত লোভী” এবং “মিথ্যার প্রতি আসক্ত” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
যদিও তিনি উল্লেখ করেন যে অনেক মুসলিম এসব বিশ্বাস করেন না, তবুও প্রশ্ন তোলেন—অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত কিছু ইমাম কি একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
উদাহরণ হিসেবে তিনি সিডনির মসজিদ এস-সুন্নাহ মস্কো এর লেবানিজ বংশোদ্ভূত ইমাম আহমাদ জোয়াদ এর একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি ইহুদিদের “দানব”, “রক্তপাতপ্রিয়” এবং “সহিংসতায় সন্তানদের বড় করে” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সবশেষে লেখক প্রশ্ন তোলেন—সরকার ও প্রশাসন কি এখনও বিশ্বাস করতে চায় না যে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে? এবং সেই কারণেই কি একজন মুসলিম বক্তা দেশে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই যথাযথভাবে করা হচ্ছে না?
অ্যান্ড্রু বোল্ট:
সংবাদ প্রবাহকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে প্রমাণিত দক্ষতার অধিকারী অ্যান্ড্রু বোল্ট নিয়মিতভাবে জনমত গঠন করেন, সমসাময়িক বিতর্ককে সামনে আনেন এবং জাতীয় ইস্যুতে তাঁর স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি একজন শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক ও ভাষ্যকার, যার কলাম প্রকাশিত হয় হেরাল্ড সান, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং দ্য অ্যাডভার্টাইজার-এ। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি পঠিত রাজনৈতিক ব্লগের লেখক এবং The Bolt Report অনুষ্ঠানের উপস্থাপক, যা স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়ায় সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন রাত ৭টায় সম্প্রচারিত হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au