মার্কিন অবরোধ ভেঙে দক্ষিণের বন্দরে ইরানি জাহাজ, দাবি ইরানি সেনাবাহিনীর
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ মার্কিন অবরোধ অমান্য করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে সফলভাবে নোঙর করেছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে…
মেলবোর্ন, ৮ এপ্রিল- দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমানো বা বন্ধ করে দেওয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। পটুয়াখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর এবার কক্সবাজারের মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে করে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট হলেও সাম্প্রতিক দিনে তা কমে মাত্র ৩১৫ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। কয়েক দিন ধরেই কেন্দ্রটি সীমিত উৎপাদনে চলছে। একই সময়ে পটুয়াখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লার সংকটে বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক কে. এম. নঈম খান জানিয়েছেন, কয়লার অভাবেই প্ল্যান্টটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যদিও বন্ধ থাকার সুনির্দিষ্ট সময় তিনি উল্লেখ করতে পারেননি।
এদিকে আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম জানান, কয়লা আমদানির দরপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত নভেম্বর থেকেই তাদের কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি মাসের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কেন্দ্রটি আবার চালু করা সম্ভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ালেও বড় দুটি কেন্দ্র উৎপাদনে ব্যাহত হওয়ায় সেই পরিকল্পনার পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও রামপাল, পায়রা এবং অন্যান্য কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলো এখনো স্বাভাবিক উৎপাদনে রয়েছে, তবুও বড় কেন্দ্রগুলোর এই সংকট সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের পেছনে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। তারা বলছেন, একই উৎস থেকে কয়লা আমদানি করে দেশের কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে চলতে পারলেও অন্যগুলো কেন পারছে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণত বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কয়লার চাহিদা বেড়ে গেছে এবং ইন্দোনেশিয়া নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর সীমিত পরিমাণে রপ্তানি করছে। পাশাপাশি স্পট মার্কেটে কয়লা বিক্রি বন্ধ থাকায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না থাকা কেন্দ্রগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই সংকট আগেই অনুমান করা সম্ভব ছিল। যারা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে, তারা এখনো সমস্যায় পড়েনি। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি ছিল না, তারা এখন বড় ধরনের ঘাটতিতে ভুগছে।
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলী জানান, কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিমাণ কয়লা মজুত নেই। ফলে গত ৫ এপ্রিলও কেন্দ্রটির উৎপাদন সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াটে সীমাবদ্ধ ছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এসএস পাওয়ারসহ দেশের বেশ কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো পূর্ণ উৎপাদনে রয়েছে। তবে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি ইউনিটের কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যদিও অন্য ইউনিট চালু রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au