জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে একদিনে ৯১টি বিল পাস
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে একদিনেই মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)…
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল-মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে আনা এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শ্রমবিষয়ক বৈঠকে দুই দেশ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
মালয়েশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর, যা সব উৎস দেশ থেকেই কর্মী নিয়োগে ব্যবহৃত হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ‘নিয়োগ ব্যয় নিয়োগকর্তা বহন করবে’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়োগের পুরো খরচ নিয়োগদাতাদের ওপর বর্তানোর বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই প্রস্তাবটি পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত শ্রম অভিবাসন সংক্রান্ত বৈঠকে আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মালয়েশিয়ার পক্ষের নেতৃত্ব দেন মানবসম্পদমন্ত্রী দাতো শ্রী রমানান রামাকৃষ্ণান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিনও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতিরিক্ত শ্রম সরবরাহ এবং উচ্চ নিয়োগ ব্যয়ের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে আগের অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ পুনরায় চালুর চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিএনপি সরকারের অধীনে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ পক্ষ মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং এটিকে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে বাস্তবায়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দুই দেশই দ্রুত সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আটকে থাকা কর্মীদের সমস্যা সমাধান, মধ্যস্বত্বভোগী কমানো এবং দক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। একই সঙ্গে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান মামলাগুলো নিয়েও আলোচনা হয়। মালয়েশিয়া তাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়, আর বাংলাদেশ যথাযথ বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
পাশাপাশি, দুই পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়, যাতে ভবিষ্যতে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ হয়।
সূত্রঃ এশিয়ান নিউজ নেটওয়ার্ক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au