জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে একদিনে ৯১টি বিল পাস
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে একদিনেই মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)…
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরুর আগেই তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে পুনরায় হামলা চালাতে আমেরিকার সেনাবাহিনী প্রস্তুত। এ জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে আবারো ‘সেরা গোলাবারুদ’ বোঝাই করা হচ্ছে।
শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরপরই নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন হুঁশিয়ারি দেন।
চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব জানতে পারব। খুব শিগগিরই পুরো বিষয়টি বুঝতে পারব।’
যুদ্ধ বন্ধে গত দুই সপ্তাহ আলাপ-আলোচনার পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হচ্ছে। যাকে সংঘাত থামানোর একটি চূড়ান্ত মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পুনরায় প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের জাহাজগুলোতে সেরা গোলাবারুদ এবং এ যাবৎকালের তৈরি সেরা অস্ত্রশস্ত্র ভরছি- যা আগের চেয়েও উন্নত। এর আগেও আমরা তাদের ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছি।’
“আমরা জাহাজগুলো সাজাচ্ছি। ইরানে সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য আগের চেয়েও শাক্তিশালী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে আমরা সেগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করব।”
ইসলামাবাদের ওই আলোচনায় ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আরাগচি এর আগে যুদ্ধ পূর্ববর্তী আলোচনায় জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অবিচ্ছেদ্য অধিকার ইরানের রয়েছে।
তবে তেহরানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আপনি এমন সব মানুষের সঙ্গে লেনদেন করছেন যারা সত্য বলছে কি না- তা আমরা জানি না। আমাদের সামনে তারা বলছে যে সব পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করছে, সবকিছু শেষ। অথচ পরে তারা সংবাদমাধ্যমে গিয়ে বলছে, না, আমরা সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চাই। তাই আমরা আসল ঘটনা কি তা দেখে নেব।’
শান্তি আলোচনার মূল লক্ষ্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবিগুলোর ওপর। যার মধ্যে রয়েছে ইরানের মাটির গভীরে লুকানো আনুমানিক ১ হাজার পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ বন্ধ হওয়ার পর থেকে খুব কম জাহাজই সেখান দিয়ে যাতায়াত করেছে।’
আলোচনার টেবিলে থাকা অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা, তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির অবস্থা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের দাবি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ শুক্রবার জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান আলোচনায় বসবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে পড়া সম্পদ অবমুক্ত করা আগে হতে হবে।
এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে গালিবফ স্পষ্ট করে বলেন, আগের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা না করা পর্যন্ত আলোচনা এগোতে পারে না। তিনি লেখেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত দুটি পদক্ষেপ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আগে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তি।’
মোহাম্মদ বাঘের আরও যোগ করেন, ‘আলোচনা শুরুর আগে এই দুটি বিষয় অবশ্যই পূরণ হতে হবে।’
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হওয়ার মুহূর্তে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের বিষয়টিই তিনি স্পষ্ট করেন।
ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে আয়ের বিশাল অংশ- যা কয়েক বিলিয়ন ডলার, বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে সংগ্রহ করতে পারছে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au