ইরানের যা অবশিষ্ট আছে তাও শেষ করে দেব, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মেলবোর্ন, ১২ এপ্রিল- যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও আমেরিকার মধ্যেকার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেস্তে হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী…
মেলবোর্ন, ১২ এপ্রিল- ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনে শুধু গানের জগতে নয়, আর্থিক দিক থেকেও এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন। শুরুর দিকে কম পারিশ্রমিক পাওয়া থেকে শুরু করে দেশের অন্যতম ধনী গায়িকাদের একজন হয়ে ওঠার এই যাত্রা ছিল সংগ্রাম আর সাফল্যের এক বিরল গল্প।
সংগীতের স্বর্ণযুগে তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর-এর তুলনায় অনেক কম পারিশ্রমিক পেতেন আশা ভোঁসলে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, যেখানে লতা একটি গানের জন্য প্রায় ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন, সেখানে আশা পেতেন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। তবে সেই সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে মূলত ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ বা নাচের গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু এই ধরনের গানই পরে তার সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে তিনি রোমান্টিক, গজল, ক্লাসিক্যালসহ নানা ঘরানার গানে নিজস্ব স্বকীয়তা গড়ে তোলেন এবং প্রমাণ করেন তার বহুমুখী দক্ষতা।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে ১২ হাজারেরও বেশি গান গাওয়া এই শিল্পী আর্থিকভাবেও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। ২০২৬ সালের হিসাবে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়, যা তাকে ভারতের অন্যতম ধনী নারী গায়িকার তালিকায় স্থান দিয়েছে।
গানের বাইরে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সফল ছিলেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত রেস্তোরাঁ চেইন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত ছিল, যা তার আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবে পরিচিত। প্রিমিয়াম ভারতীয় খাবারের জন্য এই ব্র্যান্ডটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করে।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সমৃদ্ধ। মুম্বইয়ের পেডার রোডে অবস্থিত ‘প্রভু কুঞ্জ’ অ্যাপার্টমেন্টসহ মুম্বই ও পুনেতে তার একাধিক মূল্যবান সম্পত্তি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আশা ভোঁসলে শুধু সংগীত নয়, জীবনযুদ্ধ, সৃজনশীলতা ও আর্থিক সাফল্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এক সঙ্গীতপ্রধান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। পিতার মৃত্যুর পর তিনি শৈশবেই বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে গান গাওয়া শুরু করেন।
ভারতের কিংবদন্তি প্লেব্যাক সিঙ্গার লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে প্রায়ই তুলনা করা হলেও যিনি “ভারতের নাইটিঙ্গেল” হিসেবে খ্যাত এবং ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন, আশা ভোঁসলে নিজস্ব এক বহুমাত্রিক সঙ্গীতজগৎ গড়ে তুলেছিলেন।
পপ থেকে লোকসঙ্গীত-বিভিন্ন ধারায় তিনি সমান দক্ষতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার প্রারম্ভিক জীবন ছিল নানা সংগ্রামে ভরা, যার মধ্যে অল্প বয়সে, মাত্র ১৬ বছরেই একটি অস্থির বিবাহও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতের অন্যতম বহুমুখী ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীতে পরিণত হন। ২০০১ সালে তিনি সম্মানজনক দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন এবং দুইবার গ্র্যামি মনোনয়ন অর্জন করেন।
জীবনের শেষ পর্যায়েও তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে গেছেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ ভার্চুয়াল ব্যান্ড গোরিলাজ-এর অ্যালবাম দা মাউন্টেনএ তার অংশগ্রহণ ছিল।
সঙ্গীতের পাশাপাশি খাদ্যের প্রতিও তার গভীর আগ্রহ ছিল। এই আগ্রহ থেকেই তিনি দুবাই ও যুক্তরাজ্যে “আশা’স” নামে একটি রেস্তোরাঁ চেইন প্রতিষ্ঠা করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au