মেলবোর্ন, ১২ এপ্রিল- জুলাই আন্দোলনের সময় দায়ের করা আশরাফুল হত্যা চেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে জামিন দিয়েছে আদালত। ফলে অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইন শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আশরাফুল আলম।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ বলেন, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ নেই। জামিননামা দাখিলের পর আজ অথবা আগামীকালই তিনি কারামুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইবনুল কাওসার দাবি করেন, মামলার এজাহারে শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের বর্ণনা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। ২০১৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন এবং আসামির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। জামিন পেলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরী একজন সাবেক স্পিকার এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হলো।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন আশরাফুল ওরফে ফাহিম। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু সময় জনসমক্ষে ছিলেন না শিরীন শারমিন। পরে গত ৭ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ২০১৩ সালে দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি এবং টানা তিন মেয়াদে এ পদে ছিলেন।