উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ঘিরে আলোচনায় কিম জু-এয়ের দ্রুত উত্থান
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন-এর কিশোরী কন্যা কিম জু-এয়ের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য উপস্থিতি তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূমে বিধানসভা নির্বাচনী জনসভায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ কায়েম হয়েছে এবং নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
সোমবার বোলপুরের পল্লীমঙ্গল ক্লাব মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগামী ৪ মে-র পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। তার ভাষায়, তৃণমূলের ‘গুন্ডাদের’ খুঁজে খুঁজে জেলে ভরা হবে এবং ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে’।
সভায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ২৩ এপ্রিল ঘরে বসে না থেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে এবং ‘বোমার জবাব ব্যালটে’ দিতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ গঠিত হবে এবং রাজ্যে উন্নয়নের নতুন যুগ শুরু হবে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি রাজ্যের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাতে বাইরে বের হওয়া নারীদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যেখানে রাতেও নারীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন বলে দাবি করেন তিনি।
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ, রেশন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এসব দুর্নীতির জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্বেই এসব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জলজীবন মিশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ। তিনি দাবি করেন, এসব অর্থ ‘তৃণমূলের গুন্ডারা’ আত্মসাৎ করেছে।
সভায় তিনি আরও বলেন, শান্তিনিকেতনে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। অপরদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এই ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন বোলপুরের সভায় মঞ্চে উঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনেন অমিত শাহ। তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেন, সাধারণ মানুষকে যেন কোনো বাধা ছাড়াই সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
বীরভূম সফরে এটি ছিল তার প্রথম জনসভা। এরপর জেলার খয়রাশোলেও আরেকটি সভা করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একটি জনসভা ও একটি রোড শোতেও অংশ নেওয়ার সূচি রয়েছে তার।
রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে এবং ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করবে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au