বিদ্যুত বিভাগ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সুপারিশ দেবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবদেরও কমিটির সদস্য করা হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের মূল্যহার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রস্তুত করবে কমিটি, যা পরবর্তীতে মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনে অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগ এ কমিটিকে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করবে।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্ধারিত চুক্তিমূল্যে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিনে নেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এরপর সংস্থাটি ছয়টি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে এবং এসব বিতরণ সংস্থা খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য নির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
উৎপাদন ব্যয় ও পাইকারি দামের মধ্যে ব্যবধান থাকায় সরকারকে নিয়মিত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কমিশনের কাছে আবেদন করতে হয় এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইতোমধ্যে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, প্রথমে ঘাটতির প্রকৃত কারণ নিরূপণ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। এরপরও ঘাটতি থাকলে তা নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা ভোক্তারা মেনে নেবে না।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নীতিগত স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।