ভারত–রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি, একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের সুযোগ
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল- দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে ভারত ও রাশিয়া। এই চুক্তির আওতায় প্রয়োজনে একে অপরের…
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল- বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ বা অ্যান্টিসেমিটিজম বাড়ছে বলে দাবি করে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক ও ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়। ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ‘বিপজ্জনক ইহুদিবিদ্বেষী ইনফ্লুয়েন্সারের’ একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিকভাবে ইহুদিবিদ্বেষ এবং জায়নবাদবিরোধী মতাদর্শ ছড়ানোয় যেসব ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছেন, তাদের কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। ইসরায়েলের দাবি, তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সরাসরি নিন্দা না জানিয়ে বরং ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’, ‘অবরোধ’ ও ‘দুর্ভিক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, তিনি বিভিন্ন আলোচনায় ও অনলাইনে ইহুদিদের নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ধারণা প্রচার করেন, বিশেষ করে গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণে ইহুদি প্রভাব সংক্রান্ত বক্তব্যের কারণে তাকে ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
আরেক মার্কিন কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক কর্মী নিক ফুয়েন্তেসকেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাকে নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ইহুদিবিরোধী বক্তব্য, হলোকাস্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ধারণা প্রচার করেছেন।
মার্কিন ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েন্সের বিরুদ্ধেও ইহুদি জনগোষ্ঠী ও তথাকথিত জায়নবাদী প্রভাব নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিবেদনে। একইভাবে ডেনমার্কভিত্তিক ইনফ্লুয়েন্সার আনাসতাসিয়া মারিয়া লুপিসকে ইহুদি ও ইসরায়েলকে নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ড্যান বিলজেরিয়ান, মিশরীয়-আমেরিকান কমেডিয়ান বাসেম ইউসুফ, ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান, ধর্মীয় বক্তা ওমর সুলেইমান এবং মার্কিন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইয়ান ক্যারল।
ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি বলেন, এই প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষের বিস্তার এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা। তার মতে, সময়মতো এসব প্রবণতা চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আভি কোহেন-স্কালি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এখন ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াশীল নয়, বরং গোয়েন্দাভিত্তিক ও সক্রিয় কৌশল গ্রহণ করছে। তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারকে আইন, শিক্ষা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ ধরনের প্রচারণা মোকাবিলার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে বৈশ্বিক ঘৃণামূলক বক্তব্য মোকাবিলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সূত্র: ওয়াইনেট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au