বিশ্বমঞ্চে বাংলা নববর্ষ, সিডনি অপেরা হাউসে বর্ণাঢ্য বৈশাখী উদ্যাপন
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউসে প্রথমবারের মতো বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষকে ঘিরে বৈশাখী উৎসব উদ্যাপিত হয়েছে। ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিশ্বের অন্যতম এই…
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নতুন করে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ‘ফান্ডস ট্রান্সফার স্কিম’ বা এফটিএস ব্যবস্থার নিয়ম ও প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।
এই স্কিম বাস্তবায়নে কাজ করছে এএনজেড ব্যাংক। মূলত শিক্ষার্থীরা যাতে বিদেশে গিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারেন এবং তাদের আর্থিক সামর্থ্য যাচাই করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
এফটিএস একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আগে থেকেই একটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হয়। নিউজিল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেই অর্থ মাসভিত্তিক নির্দিষ্ট পরিমাণে একটি সাধারণ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়, যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পারেন।
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড নির্ধারণ করে কোন শিক্ষার্থীকে এফটিএস ব্যবহার করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি স্টুডেন্ট ভিসা অনুমোদনের শর্ত হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে শুধুমাত্র এই স্কিমে অংশ নিলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না।
এই স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৩ বছর হতে হবে। এক বছরের জন্য জীবনযাত্রার খরচ হিসেবে নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে হবে। উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ২০ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার এবং স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ১৭ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার জমা রাখতে হবে। এই অর্থে টিউশন ফি অন্তর্ভুক্ত নয়।
সাধারণত আবেদনকারীরা অ্যাপ্রুভাল ইন প্রিন্সিপাল (এআইপি) পাওয়ার পর এফটিএস প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরপর অনলাইনে ব্যাংকে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে।
অ্যাকাউন্ট খোলার পর নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে হয় এবং ব্যাংক তা ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডকে নিশ্চিত করে। এই নিশ্চিতকরণ ছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয় না। নিউজিল্যান্ডে পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থীকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে হয়।
এফটিএস অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থ উত্তোলন করা যায় না। যেমন, ২০ হাজার ডলার জমা থাকলে মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৬৬৬ ডলার এবং ১৭ হাজার ডলার জমা থাকলে প্রায় ১ হাজার ৪১৬ ডলার খরচ করা যাবে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অর্থ তোলার সুযোগ থাকলেও তা ব্যাংকের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা চাইলে আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে পারবেন।
ভিসা আবেদন বাতিল হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে জমাকৃত অর্থ ফেরত নেওয়া যাবে। একইভাবে কোর্স শেষ বা মাঝপথে বন্ধ করলে অবশিষ্ট অর্থ উত্তোলন করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুযোগ থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এফটিএস ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুরক্ষিত আর্থিক কাঠামো তৈরি করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au