কোন উদ্দেশ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলেন বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক…
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- আকাশে রংধনু মানেই আমরা সাধারণত সাত রঙের এক বর্ণিল দৃশ্য কল্পনা করি। কিন্তু প্রকৃতির আরও এক বিস্ময় আছে, যেখানে রংধনু দেখা যায় একেবারে সাদা রঙে। এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনার নাম ফগ বো (Fog Bow), যা সাধারণত ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ফগ বো মূলত রংধনুরই একটি বিশেষ রূপ, তবে এটি অনেক বেশি বিরল। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে প্রথম ফগ বো দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরে। ১৭৩৭ থেকে ১৭৩৯ সালের মধ্যে স্প্যানিশ বিজ্ঞানী ও অভিযাত্রী অ্যান্টোনিও দে উল্লোয়া আকাশে এমন তিনটি আলোক বলয় দেখেছিলেন, যা রংধনুর মতো মনে হলেও এর মধ্যে একটি ছিল সাদা রঙের বাঁক। সেটিকেই পরে ‘চতুর্থ আর্ক’ বলা হয়, যা আজকের ফগ বো হিসেবে পরিচিত।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যায়, সাধারণ রংধনু তৈরি হয় যখন সূর্যের আলো বড় পানির ফোঁটার ভেতর দিয়ে প্রতিসরিত হয়ে আবার প্রতিফলিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলো বিভিন্ন কোণে ভেঙে গিয়ে সাতটি আলাদা রঙ তৈরি করে—লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, আকাশি ও বেগুনি। এই কারণেই আমরা রঙিন রংধনু দেখি।
কিন্তু ফগ বো তৈরি হয় একেবারেই ভিন্ন পরিস্থিতিতে। এতে বড় পানির ফোঁটার পরিবর্তে খুব ছোট কুয়াশার কণা কাজ করে। এসব কণার আকার এতটাই ক্ষুদ্র যে সূর্যের আলো শুধু প্রতিসরিতই হয় না, বরং চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এই আলোর ছড়িয়ে পড়াকে বলা হয় বিচ্ছুরণ। প্রতিসরণ ও বিচ্ছুরণ একসঙ্গে কাজ করায় সব রং মিশে গিয়ে এক ধরনের সাদা আভা তৈরি হয়। এই কারণেই ফগ বোকে সাদা রংধনু বলা হয়।
নর্থ ডাকোটার আবহাওয়াবিদ কেনি মিলার বলেন, রংধনু এবং ফগ বো তৈরির প্রক্রিয়া একই হলেও পার্থক্য তৈরি হয় পানির ফোঁটার আকারে। সাধারণ রংধনুতে বড় ও প্রায় গোলাকার ফোঁটা লাগে, কিন্তু ফগ বো তৈরি হয় অত্যন্ত ছোট ফোঁটা দিয়ে, যা কুয়াশায় থাকে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের আবহাওয়াবিদ বেইলি নরডিন ব্যাখ্যা করেন, সাধারণ রংধনুতে আলো পানির ফোঁটার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে ভেতরে প্রতিফলিত হয়ে আবার বেরিয়ে আসে, যার ফলে আলাদা আলাদা রং দেখা যায়। কিন্তু ফগ বোতে ফোঁটা এত ছোট হওয়ায় আলো অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে, ফলে রংগুলো আলাদা না হয়ে একসঙ্গে মিশে সাদা আভা তৈরি করে।
ফগ বো তৈরি হওয়ার জন্য মূল শর্ত হলো কুয়াশা। বিশেষ করে তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তন হলে, যেমন বসন্তে বরফ গলা শুরু হলে, কুয়াশা বেশি তৈরি হয়। তখন সূর্যের আলো কুয়াশার ওপর পড়লে এই সাদা রংধনু দেখা যেতে পারে।
গবেষকরা ফগ বোকে অনেকটা শীতের দিনে নিঃশ্বাসের সঙ্গে তুলনা করেন। যখন আমরা ঠান্ডা বাতাসে শ্বাস ছাড়ি, তখন গরম বাতাস ছোট কুয়াশার মতো হয়ে দৃশ্যমান হয়, ঠিক একইভাবে সূর্যের আলোও ক্ষুদ্র জলকণার সঙ্গে মিশে ফগ বো তৈরি করে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, সাধারণ রংধনু তৈরি হতে পানির ফোঁটার আকার প্রায় ২ মিলিমিটার হতে হয়, যেখানে ফগ বো তৈরি হয় প্রায় ০.০৫ মিলিমিটার আকারের কুয়াশা কণা দিয়ে। এই পার্থক্যই নির্ধারণ করে আমরা রঙিন রংধনু দেখব নাকি সাদা ফগ বো।
ফগ বো সবসময় একেবারে সাদা হয় না। কখনও কখনও এতে হালকা লাল বা বেগুনি আভা দেখা যায়, যখন প্রতিসরণ বিচ্ছুরণের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে কিছু রং আংশিকভাবে আলাদা হয়ে ধরা দেয়।
বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে ফগ বো, ডাবল রংধনু এবং টুইন রংধনুর মতো নানা আলোকীয় ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেন। এতে তারা সূর্যালোক ও পানির ফোঁটার মিথস্ক্রিয়া আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
ফগ বো দেখা খুব সহজ নয়। এটি দেখতে হলে অবশ্যই কুয়াশা থাকতে হবে এবং একই সঙ্গে সূর্য বা চাঁদ দর্শকের পেছনে থাকতে হবে, যাতে আলো কুয়াশার ওপর পড়ে। খুব বেশি ঘন কুয়াশা হলে আবার কিছুই দেখা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফগ বো পৃথিবীতে তুলনামূলকভাবে বিরল একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য। তবে পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্র উপকূল বা আর্কটিক অঞ্চলে কুয়াশা বেশি থাকায় সেখানে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au