কঠোর নিরাপত্তা বিধিতে শ্রেণিকক্ষে ফিরল ইউএইর শিক্ষার্থীরা
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কয়েক সপ্তাহ দূরশিক্ষণের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে লাখো শিক্ষার্থী। সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে স্কুল,…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। হাভানায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসেন। সেখানে মূল ইস্যু হিসেবে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধ প্রত্যাহার এবং কিউবার অর্থনৈতিক সংকট। তবে আলোচনার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সমঝোতা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি না থাকায় পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
কিউবা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময় হাভানায় বৈঠক করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের আরোপিত জ্বালানি অবরোধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছে কিউবা সরকার। তবে এই বৈঠককে এখনও পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং প্রাথমিক পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মার্কিন বিষয়ক উপমহাপরিচালক আলেহান্দ্রো গার্সিয়া দেল তোরো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী পর্যায়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। অন্যদিকে কিউবার পক্ষ থেকে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনি বলেন, এই আলোচনা ছিল “সম্পূর্ণ সম্মানজনক ও পেশাদার পরিবেশে পরিচালিত” এবং কোনো ধরনের হুমকি বা সময়সীমা আরোপ করা হয়নি, যা কিছু মার্কিন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল।
গার্সিয়া দেল তোরো আরও জানান, আলোচনায় কিউবার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জ্বালানি অবরোধ প্রত্যাহার। তার ভাষায়, এই অবরোধ কিউবার জনগণের ওপর “অন্যায্য অর্থনৈতিক শাস্তি” হিসেবে কাজ করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে বলেন, ওয়াশিংটন অন্য দেশগুলোকে কিউবায় তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে “অর্থনৈতিক চাপ ও ব্ল্যাকমেইল” কৌশল ব্যবহার করছে।
তার দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মৌলিক নীতির পরিপন্থীভাবে যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কিউবা মনে করে, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা একটি মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চলতি মাসের শুরুতে হাভানায় একাধিক বৈঠক করেন। এই আলোচনায় কিউবার রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, রাজনৈতিক দমননীতি শিথিল করা এবং ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতিতে সংস্কার আনার মতো শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা কিউবায় চালুর অনুমতির কথা বলে এবং ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর বাজেয়াপ্ত করা মার্কিন সম্পদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও আলোচনায় আনে। ওয়াশিংটনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা কিউবায় বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন।
এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন এবং দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি বজায় রেখেছিলেন। তার প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিউবায় জ্বালানি অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটে পড়েছে এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি পরিস্থিতি এমনই থাকে, তবে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিলসহ একাধিক দেশ কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে “সৎ ও সম্মানজনক সংলাপের” আহ্বান জানিয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মন্তব্য করেছেন, কিউবার ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেই অন্য কোনো দেশের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
এদিকে রাশিয়া বলছে, তারা আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সরাসরি মধ্যস্থতাকারী নয়, তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au