কঠোর নিরাপত্তা বিধিতে শ্রেণিকক্ষে ফিরল ইউএইর শিক্ষার্থীরা
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কয়েক সপ্তাহ দূরশিক্ষণের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে লাখো শিক্ষার্থী। সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে স্কুল,…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- পুলিশের পোশাক আবারও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চালু হওয়া নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে অসন্তোষ এবং নানা আলোচনার পর এবার সেই পোশাক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ইতোমধ্যে রং নির্ধারণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সকল ইউনিটের মতামত নিয়ে নতুনভাবে ইউনিফর্মের রং নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্ষেত্রে শার্টের রং হবে হালকা অলিভ টিসি (সাধারণ ফ্যাব্রিক) এবং অন্যান্য ইউনিট যেমন এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব বাদে বাকি সব পুলিশের জন্য শার্টের রং নির্ধারণ করা হয়েছে গাঢ় নীল টিসি (সাধারণ ফ্যাব্রিক)। উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রং রাখা হয়েছে টিসি টুইল খাকি।
এই প্রস্তাব কার্যকর করতে “পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫” সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে। সেই বিধি সংশোধনের অনুমোদন চেয়ে গত ১৫ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পুলিশের বর্তমান ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন করে নতুনভাবে শার্টে আয়রন রঙ এবং প্যান্টে কফি শেড নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এই পরিবর্তনের পর মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা এবং অসন্তোষ দেখা দেয়।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নতুন পোশাক নিয়ে অনেক সদস্য অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনাও করেন। এর ফলে বাহিনীর শৃঙ্খলা ও মনোবলে প্রভাব পড়ছে বলে মত দেন কর্মকর্তারা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে বিভিন্ন নমুনা ও রঙ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে শেষ পর্যন্ত নতুন করে দুটি ভিন্ন রঙের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের জন্য সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না। কারণ পুলিশের পোশাক সাধারণত প্রাপ্যতার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়। ফলে নতুন রং নির্ধারণ করলেও অতিরিক্ত বাজেট প্রয়োজন হবে না বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর বেশ কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রুল ৪, রুল ৭ এবং সংশ্লিষ্ট উপধারাগুলো।
পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক বিভাগের ডিআইজি সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ের মতামত ও আলোচনা বিবেচনায় নিয়েই নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর নির্ভর করছে।
একজন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা চান দ্রুত এই পরিবর্তন কার্যকর হোক। এমনকি পুলিশ সপ্তাহের আগেই নতুন পোশাক চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে তা নির্ভর করছে বিধি সংশোধনের অনুমোদনের ওপর।
এদিকে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে বাহিনীর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। গত জাতীয় নির্বাচনের পর বিষয়টি আবারও সামনে আসে। অনেক পুলিশ সদস্য পুরোনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি জানান। কেউ কেউ বর্তমান পোশাকের রং ও নকশা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য হঠাৎ করে পোশাক পরিবর্তনের পক্ষে নন। তারা মনে করেন, পুরোনো খাকি পোশাকই পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নতুন পোশাক নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের মতামত, আবহাওয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়নি। এতে অন্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে, ফলে পুলিশের পরিচয় আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বারবার পোশাক পরিবর্তন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এই অর্থ নতুন পোশাকে ব্যয় না করে বরং আধুনিকায়ন, যানবাহন ও লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা উচিত।
অন্যদিকে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুলিশের মনোবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন পোশাক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছর পুলিশ, র্যাব ও আনসারের জন্য আলাদা আলাদা নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণ করা হয়েছিল। নভেম্বর থেকে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ নতুন পোশাক পরা শুরু করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের বছরে পাঁচ সেট পোশাক সরবরাহ করা হয়। প্রায় দুই দশক পর পোশাকে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আবারও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি নতুন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়, তাহলে পুলিশের ইউনিফর্ম আবারও পরিবর্তিত হবে। এতে বাহিনীর ইতিহাসে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার পোশাক পরিবর্তনের নজির তৈরি হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au