বাংলাদেশ

কলকাতায় আটক হওয়ার দাবি

কুমিল্লার দুর্গাপূজা সহিংসতার মূলহোতা বাহারউদ্দিন কলকাতায় গ্রেপ্তার

  • 6:18 pm - June 13, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৭০ বার
কলকাতায় বাহারউদ্দিনকে দেখা গেছে বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে আলোচনায় আসেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। তাঁর পোস্ট ঘিরে দুই বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

মেলবোর্ন, ১৩ জুন: ২০২১ সালের কুমিল্লার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল পরিকল্পনাকারী বাহারউদ্দিনকে ভারতের কলকাতায় আটক করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবিতে বলা হয়েছে, কুমিল্লার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রাখার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত বাহারউদ্দিন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর কলকাতায় শনাক্ত হন। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে কুমিল্লার একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপে প্রতিমার পাদদেশে কোরআন শরীফ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ফলে কয়েক দিনের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হিংসা। কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়, মন্দির ভাঙচুর হয়। খবর অনুসারে, পাঁচশোর বেশি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অন্তত ২৩ জন হিন্দু নিহত হন। সেই ক্ষত এখনও অনেকের মনে তাজা।কিন্তু ঘটনার পর যখন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়, তখন চিত্রটা পুরোপুরি উলটে যায়।

ফুটেজে দেখা যায়, একজন মুসলিম যুবক নিজে কোরান শরিফ নিয়ে প্যান্ডেলে ঢুকছেন এবং সেটি প্রতিমার কাছে রেখে যাচ্ছেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানান, তাকে এই কাজ করতে বলেছিলেন বাহারুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল পঞ্চাশ হাজার টাকা। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে পুলিশ বাহারুদ্দিনকে খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু তিনি তখনই গায়েব হয়ে যান। কোনো খোঁজ মেলেনি।

সেই বাহারুদ্দিনকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মাত্র দু’দিন আগে। কলকাতায় তাকে দেখা গেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। এই আবহে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়।

বিজেপি নেতা তথাগত রায় এর টুইটার পোস্ট

তিনি দাবি করেছেন ১২ অক্টোবর কলকাতা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তথাগত আরও বলেছেন তিনি এই খবরটি সমাজ মাধ্যমে দেখেছেন। খবরে বলা হয়েছে, তার স্ত্রী, ছেলে, বাবা-মা সহ আটজন পরিবারের সদস্য কলকাতায় শান্তিতে বসবাস করছিলেন। তাদের কাছে ভারতীয় নথি আধার কার্ড, রেশন কার্ড সবই ছিল। তথাগত দাবি করলেও কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

কীভাবে এসব নথি পেলেন, কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এলেন এসব প্রশ্ন এখন উঠছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে। কুমিল্লার নানুয়া দিঘির পাড়ের দুর্গা পূজা মণ্ডপে সেই ঘটনা ঘটে। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ছবি কোরান প্রতিমার পায়ের কাছে। রাগে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা। একের পর এক হামলা শুরু হয় হিন্দু এলাকায়। ঘরবাড়ি পুড়ছে, মানুষ ছুটছে আশ্রয়ের খোঁজে।

অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। সেই সময়ের ছবি আজও চোখে জল এনে দেয়। একদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাত, অন্যদিকে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন।পুলিশ তদন্তে যখন বেরিয়ে আসে যে এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র, তখন অনেকের চোখ খুলে যায়। যুবক ইকবাল হোসেনকে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি নাকি মসজিদ থেকে কোরান নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পর্দার পেছনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম উঠে আসে বাহারুদ্দিনের। তিনি তখন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের। অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু তদন্ত আর এগোয়নি বলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

২০২১ সালের কুমিল্লা ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সে সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিল।

বর্তমানে বাহারউদ্দিনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লার ২০২১ সালের ঘটনাটি এখনও বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২১ সালের সেই ঘটনায় কুমিল্লা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বহু হিন্দু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মন্দির ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়া নিয়ে শহরে উত্তেজনামণ্ডপে হামলা

১৩ অক্টোবর ২০২১, বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশের কুমিল্লা শহরের একটি পূজামণ্ডপ থেকে কোরআন পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার পূজা উদযাপন কমিটির সম্পাদক নির্মল পাল।

তিনি বলেন শহরের নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপের প্রতিমায় কোরআন রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ গিয়ে তা সরিয়ে নেয়। কিন্তু এর পর পরই একদল ব্যক্তি বেশ কিছু পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা চালায়।

“পূজা বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে কোরআন রেখে এ ঘটনা ঘটিয়ে তারাই এখন শহরজুড়ে পূজাবিরোধী বিক্ষোভ করছে। কয়েকটি মণ্ডপে হামলার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু পুলিশের বাধায় ভেতরে ঢুকতে না পারলেও গেইট বা সামনের স্থাপনা ভাংচুর করেছে,” বলছিলেন তিনি।

জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তারা এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

“আমরা টহল দিচ্ছি। আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। কয়টি মণ্ডপে হামলার চেষ্টা হয়েছে এ মূহুর্তে বলতে পারছি না। পরিস্থিতি ঠিক হলে আমরা বিস্তারিত জানাবো,” বেলা চারটার দিকে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বিবিসিকে বলেছেন বেলা এগারটার দিকে হঠাৎ কোরআন অবমাননা হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে।

তিনি বলেন দশটার পর নানুয়ারদীঘির মণ্ডপে কোরআন নজরে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানানো হয় এবং পুলিশ তখনি এসে কোরআনটি সরিয়ে নেয়। “কিন্তু খবরটি খুব দ্রুত ছড়ানো হয় এবং কয়েকটি মাদ্রাসার লোকজন ছাড়াও স্থানীয় অনেকে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে মণ্ডপ গুলোতে হামলা করা শুরু হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়”। তিনি বলেন কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেলেও সেগুলো কোথায় হয়েছে তা বোঝা যায়নি। এদিকে ঘটনার পরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোরআন অবমাননা করা হয়েছে দাবি করে ব্যাপক প্রচার শুরু হয় এবং অনেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনেকে ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন। প্রসঙ্গত, বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায় এখন তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করছে।

কুমিল্লার পর চাঁদপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষপ্রাণহানি

১৪ অক্টোবর ২০২১, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কুমিল্লার ঘটনার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিওর আখড়া মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে, জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা, মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

সংঘর্ষের পর হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তিনজনের লাশ আসার কথা জানিয়েছেন কর্তব্যরত এক চিকিৎসক। তবে সংঘর্ষে কারও নিহত হওয়ার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। বুধবার সকালে কুমিল্লা শহরের একটি মন্দিরে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুর নাগাদ কুমিল্লায় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও পাশের জেলা চাঁদপুরে সন্ধ্যার পর মন্দিরে হামলা হয় বলে হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক জানিয়েছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাত ৮টার পর উপজেলার মনিনাগ এলাকা থেকে একটি মিছিল এসে মন্দিরে (লক্ষ্মীনারায়ণ জিওর আখড়া) হামলা চালায়।” বাজারের ওই মন্দির ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থানে মন্দিরে হামলা হয়েছে বলেও জানান রুহিদাস। হামলাকারীদের পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এসময় পুলিশ গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, “আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এর মধ্যেই রাত ৮টার দিকে হতাহত কয়েকজনকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ বলেন, “তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। মৃতদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।” ওই তিনজন হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল এলাকার আল আমিন রাজু (১৮), রান্ধুনিমুড়ার ইয়াসিন হোসেন হৃদয় (১৪) ও হাজীগঞ্জ বিজনেস পার্কের শ্রমিক বাবলু (২৮)। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসএম শোয়েব আহমেদ চিশতী বলেন, “৮-১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় এসেছে। তাদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড (জেলা হাসপাতালে) করা হয়েছে।” তিনজনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগে মারা গেছে নাকি পরে, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি চিকিৎসকরা।

সংঘর্ষে নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও ১৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাজীগঞ্জের ওসি হারুন। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, “মৃত্যুর কথা শুনেছি। তবে কয়জন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনও।” কতটি মন্দির আক্রান্ত হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তা-ও এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”

পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

সহিংস পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

একই সঙ্গে বুধবার রাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানিয়েছেন। হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ রাতে বলেন, “হাজীগঞ্জ বাজারের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পূজার নিরাপত্তায় ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

১৪ অক্টোবর, ২০২১, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

হিন্দু ধর্মাম্বলীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজার নিরাপত্তা রক্ষায় ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশব্যাপী বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুর্গা পূজার নিরাপত্তা রক্ষায় দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে।’ ‘এখন পর্যন্ত কুমিল্লা, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ ২২ জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

ভারত: বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা

১৪ অক্টোবর ২০২১, বিবিসি বাংলা

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভায় বিরোধীদলীয় প্রধান ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের হামলা থেকে ‘সনাতনী জনগণ‌’কে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে। বৃহস্পতিবার মি. মোদীর কাছে লেখা এক চিঠিতে মি. অধিকারী বলছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এখন চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার ভাষায়, ভ্যান্ডাল বা ‘ধংসোন্মাদ’রা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করে প্রতিমা মণ্ডপ এবং মন্দিরে আক্রমণ চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এসব কারণে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য এবারের দুর্গা পূজার আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর১৪৪ ধারা

১৫ অক্টোবর ২০২১,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বিজয়া দশমীর দিনে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে কয়েকটি পূজামণ্ডপ এবং হিন্দুদের বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের পর ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলা-ভাংচুরের সময় এক ব্যক্তি ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে’ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৮ জন।

ফাঁকা গুলি ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল ছুড়ে এবং লাঠিপেটা করে পুলিশ পরে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে বলে বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ ইমরান জানান। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মণ্ডপগুলোতে যখন বিসর্জনের প্রস্তুতি চলছে, তখনই হামলার শুরু হয়। পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর চলে। শাহ ইমরান বলেন, “এ সময় চৌমুহনী কলেজ রোডের বিজয়া পূজামণ্ডপে অগ্নিসংযোগ ও হিন্দুদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।  যতন সাহা নামে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সে সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।” যতন সাহা কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মনোরঞ্জন সাহার ছেলে। তিনি পূজা উপলক্ষে চৌমুহনীতে এক আত্মীয়র বাড়িতে এসেছিলেন।

বেগমগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস জানান, পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম, বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার, পরিদর্শক রুহুল আমিনসহ আহত ১৮ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সদর হাসপাতালের আরএমও সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, আহত তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে তাদের হাসপতালে আনা হয়েছে। যতন সাহাকে তাদের হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয় বলে জানান চিকিৎসক আজিম। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। জেলার ডিসি খোরশেদ আলম বলেন, “পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে চৌমুহনীতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কাল সকাল-সন্ধ্যা চৌমুহনী বাজারে সেখানে১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।”

কুমিল্লায় পুলিশ সময়মতো আসেনিঅভিযোগ মন্দির কমিটির

১৫ অক্টোবর ২০২১, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে নানুয়া দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে হামলা হয় বুধবার সকালে। এরপর বেলা ১১টার দিকে হামলা হয় শহরের চাঁন্দমনি কালী মন্দিরে। ওই মন্দির কমিটির নেতারা বলছেন, বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তিন দফায় মন্দিরে হামলা হলেও ফোন করে দীর্ঘ সময় পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে শহরের আরও দুটি মন্দির কমিটিও। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার মন্দিরগুলো পরিদর্শনে এসেছিলেন জা্তীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক। কালীগাছ তলা মন্দির প্রাঙ্গণে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সব মন্দিরেই একই অভিযোগ যে পুলিশ আসেনি। মন্দিরের ভক্তরা বলছেন, সকাল থেকে যখন একের পর এক হামলা হচ্ছে, তখন তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ আসেনি। “চাঁন্দমনি কালী মন্দিরে মই দিয়ে টপকে ভেতরে ঢুকে আগুন দেওয়া হয়। সেখানে চার ঘণ্টায়ও পুলিশ আসেনি।”

তবে মন্দিরে পুলিশের না যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।

বৃহস্পতিবার বিকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপারকে প্রশ্ন করা হয় পূজা ও মন্দির কমিটিগুলোর অভিযোগের বিষয়ে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “মণ্ডপগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। আনসাররাও টহলে ছিল।” কুরআনের অবমাননার কথিত অভিযোগে বুধবার সকালে প্রথমে হামলা হয় কুমিল্লা শহরের মধ্যস্থলের নানুয়া দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এরপর অন্য আরও মণ্ডপেও হামলা হয়। কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবু প্রসাদ দত্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বুধবার কুমিল্লায় মোট আটটি মন্দিরে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার জের ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও মন্দিরেও হামলা হয়।

চার ঘণ্টায় ৩ দফা হামলা

নানুয়া দীঘি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে শহরের চকবাজার এলাকায় (কাপুড়িয়াপট্টি) শত বছরের পুরনো চাঁন্দমনি রক্ষাকালী মন্দির। সেখানে সকাল ১১টার সময় প্রথম হামলা হয়েছিল। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারাধন চক্রবর্তী বলেন, “প্রথম দফায় হামলার চেষ্টা হয়। তবে ফটক টপকে তারা ঢুকতে পারেনি। সাড়ে ১২টার দিকে আরেকবার হামলার চেষ্টা করে তারা। কিছুক্ষণ ঢিলাঢিলি করে চলে যায়। এরপর বেলা ৩টার দিকে তারা মই, হাতুড়ি, পেট্রোল নিয়ে চুড়ান্ত হামলা চালিয়ে সব ভেঙেচুড়ে, পুড়িয়ে চলে যায়।”

হারাধন চক্রবর্তী বলেন, “আমি সদর থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) সঙ্গে কথা বলেছি প্রথম দফা হামলা চেষ্টার পর ১১টার দিকে। তিনি বললেন, ‘ফোর্স পাঠাবেন’। তবে সেই ফোর্স আসেনি।” এরপর বেলা আড়াইটার দিকে আবারও পুলিশের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন হারাধন, তবে তাতেও ফল হয়নি বলে তার অভিযোগ। হারাধন চক্রবর্তী বলেন, “৩টার পর ফটকে মই লাগিয়ে হামলাকারীরা মন্দিরে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়ে নির্বিঘ্নে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মন্দিরে আসেন। পুলিশ সুপার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও আনসার সদস্যকে এখানে পাহারায় রেখে যান।” কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে চাঁন্দমনি মন্দিরের দুরত্ব এক কিলোমিটারের কম। আধা কিলোমিটার দূরেই চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। পুলিশ লাইনও খুব বেশি দূরে নয়।

চাঁন্দমনি মন্দির কমিটির সদস্য বিপ্লব ধর বলেন, হামলার পর মন্দির কমিটির নেতারা পুলিশ ও স্থানীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেও শুধু ‘পুলিশ আসছে’ এই আশার বাণীই শুনেছেন তারা।

“শেষে যখন হামলাকারীরা মই নিয়ে আসল, তখন আমি নিজে ৯৯৯ এ ফোন করি। একজন মহিলা ফোন ধরল। আমি কইলাম, ম্যাডাম আমাগো বাঁচান। তিনি বললেন, ‘চিন্তা কইরেন না ব্যবস্থা নিতেছি’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ভাইঙা-চুইড়া হ্যাতেরা চইলা গেল। কাউরে না পারলাম চিনতে, না পারলাম একজনরে ধইরা-বাইন্দা রাখতে।”

শহরের সালাহউদ্দীন রোডে কালীগাছতলা মন্দির কমিটির সহ সভাপতি সজল কুমার চন্দ বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে তাদের মন্দিরে হামলা হয়। এর আগে থেকে তিনি নিজে কয়েক দফা পুলিশের সাহায্য চেয়ে ফোন করেছেন। কিন্তু কেউই আসেনি। পাড়ার তরুণরা একত্রিত হয়ে মন্দির রক্ষায় এগিয়ে এসেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, হামলাকারীরা মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বসতবাড়িতে হামলা চালালেও তালা মেরে রক্ষা পায় মূল মন্দির ও প্রতিমা। মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিল্পী চক্রবর্তী বলেন, “পাড়ার ছেলেরা সবাই মিলে প্রতিরোধ করেছে বলে রক্ষা।”

কালীগাছতলা মন্দির কমিটির তরুণ সদস্য রানা চক্রবর্তী, বাপ্পী দাস জানান, তারা যখন একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, তখন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হোসেন বাবুও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনিও বারবার পুলিশকে কল করছিলেন। তবে পুলিশ এসেছে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর।

কাউন্সিলর একরামুল হোসেন বলেন, তিনি হামলাকারীদের ঠেকাতে তার কর্মীদের নিয়ে ছিলেন। এসময় সহায়তা চেয়ে তিনি প্রথমে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিট পুলিশের ইনচার্জকে ফোন করেন। এরপর ফোন করেন কান্দিরপাড় ফাঁড়ির ইনচার্জকে। তারা দুজনই কোতয়ালি থানার ওসিকে ফোন করতে বলেন। তবে ওসিকে তিনি পাননি। একরামুল হোসেন বলেন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় হামলাকারীদের ইটের আঘাত লাগে তার কোমরে। কোমর ব্যথায় এখন শয্যাশায়ী তিনি। এদিকে মন্দিরে হামলার অভিযোগে যে মামলাগুলো হয়েছে, তার একটিতে কাউন্সিলরে একরামুলকেও আসামি করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, “একজন ফোন করে মামলার কথা জানিয়ে পালাতে বলেছে। তবে আমি এখন বিছানা থেকেই উঠতে পারছি না।”

১২ ঘণ্টা বন্ধ ছিল থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট সেবা

১৫ অক্টোবর ২১, সমকাল

সারাদেশে শুক্রবার ১২ ঘণ্টা উচ্চগতির থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল। এ সময় গ্রাহকরা ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিঘ্নিত হয়েছে অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন সেবা। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো দাবি করেছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশেই নেট সেবা বন্ধ ছিল। তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হয়েছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুসারে শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়। বিটিআরসির নির্দেশেই ১২ ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় ঢাকায় সেবা চালু করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ইন্টারনেট সেবা চালু হয়।শুক্রবার সকালে বিভিন্ন ফোন অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি অবগত করে। গ্রামীণফোনের এক বার্তায় বলা হয়, বন্ধ ফোরজি ও থ্রিজি সেবা ফিরিয়ে আনতে কোম্পানিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রামীণফোন দুঃখ প্রকাশ করে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট না থাকায় তাদের সেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে গ্রাহকদের বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক করে। বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহকদের বার্তা পাঠিয়ে জানায়, ফোরজি ও থ্রিজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বিঘ্নিত হতে পারে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপ্রচারকে দায়ী করছেন অনেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকেই দেশের ছয় জেলায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

চৌমুহনীতে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার

১৬, অক্টোবর, ২০২১, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় পুকুর থেকে প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৮টার দিকে ইসকন মন্দিরের পুকুরে ওই যুবকের মরদেহ ভেসে উঠে।

নোয়াখালী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিনয় কিশোর রায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গতকাল হামলায় প্রান্ত দাশ নিহত হয়েছেন। একই দাবি করেছেন নোয়াখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কিশোর চন্দ্র মজুমদার। তিনি জানান, প্রান্ত দাশের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাহাপুর এলাকায়। তিনি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সদস্য। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল বেগমগঞ্জ) মো. শাহ ইমরান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ পুকুর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মন্দিরের দর্শনার্থী ছিলেন।’ পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুরে বেগমগঞ্জের কলেজ রোড ও ডিবি রোড এলাকায় মিছিল করেন একদল মানুষ। তারা মিছিল থেকে ভাঙচুর চালান। হামলায় যতন কুমার সাহা (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া, বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান শিকদারসহ মোট ১৮ জন আহত হয়েছেন।

তিন দিনে ৭০ পূজামণ্ডপে হামলা: ঐক্য পরিষদ

১৬ অক্টোবর ২০২১, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

দুর্গাপূজায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন দিনে ৭০টি পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরে জানান, এসবের বাইরে ৩০টি বাড়ি এবং ৫০টি দোকানেও ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। তিনি বলেন, “এর মধ্যে ১৩ অক্টোবর হাজীগঞ্জের লক্ষ্মীনারায়ণজি আখরায় আক্রমণ চলাকালে মানিক সাহা নামে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। “১৫ অক্টোবর নোয়াখালীতে বিজয় পূজামণ্ডপের সদস্য যতন সাহাকে সাম্প্রদায়িক হামলাকারীরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। ইসকন মন্দিরের প্রভু মলয় কৃষ্ণ দাসের মাথায় আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে খুন করেছে।” এছাড়া তিনি শনিবার সকালে ইসকন মন্দিরের সামনের পুকুরে আরও এক ভক্তের লাশ ভেসে উঠার কথাও জানান, যার নাম পার্থ দাস বলে ইসকন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তবে যতন সাহার ‘হৃদরোগে’ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে নোয়াখালী পুলিশের ভাষ্য। পার্থর মৃত্যু হামলায় হয়েছে কিনা তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। আর মলয় কৃষ্ণর মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্যই মেলেনি। হাজীগঞ্জে মানিক সাহার নিহত হওয়ার বিষয়েও চাঁদপুর পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব হামলার ঘটনায় আরও কমপক্ষে ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে রানা দাশগুপ্ত জানান। সাম্প্রদায়িক হামলার এসব ঘটনার মধ্যে এক হিন্দু কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলছেন ঘটনা চাঁদপুরের, কেউ নোয়াখালীর কথা বলছেন। তবে এই খবরের সত্যতা মেলেনি। এবিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাণা দাশগুপ্ত বলেন, “ধর্ষণের কোনো খবর আমাদের জানা নেই।”

কুমিল্লায় ১৭ ও চাঁদপুরে ১৬ মণ্ডপে হামলা

রানা দাশগুপ্ত জানান, ১৩ অক্টোবর অষ্টমীর দিন কুমিল্লার নানুয়ার দিঘীর উত্তর পাড় দর্পন সংঘের অস্থায়ী মণ্ডপে এবং চানমনি কালী বাড়ির বিগ্রহ ও মণ্ডপে অগ্নিসংযোগসহ ১৭টি মণ্ডপে তোরণ ভেঙে দেওয়া হয়।

১৩ অক্টোবর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যেসব মন্দিরে হামলা হয় সেগুলো হলো- ত্রিনয়নী সংঘের পূজামণ্ডপ, লহ্মীনারায়ণজী আখড়া, রামকৃষ্ণ মিশন, জমিদারবাড়ি দুর্গা মন্দির, শ্মশান কালী মন্দির, নবদুর্গা সংঘ পূজামণ্ডপ, দশভূজা সংঘ পূজা মণ্ডপ, সোনাইমুড়ি গ্রামের পূজামণ্ডপ, হাজীগঞ্জ শহর পূজামণ্ডপ, রামপুর লোকনাথ মন্দির, ভদ্রকালী মন্দির, ত্রিশুল সংঘ পূজামণ্ডপ, রামপুর বলক্ষার বাজার পূজামণ্ডপ, হাজীগঞ্জ রাধাগোবিন্দ মন্দির, বাজারগাঁও মুকুন্দ সাহার বাড়ির দুর্গা মন্দির, হাটিলা গঙ্গানগর দুর্গা মন্দির।

কুমিল্লার কাপড়িয়াপট্টি শ্রী শ্রী চান্দমনি রক্ষাকালী মন্দিরে হামলায় মূল ফটক তছতছ হয়ে যায়। ছবি: মাহমুদ জামান অভিকুমিল্লার কাপড়িয়াপট্টি শ্রী শ্রী চান্দমনি রক্ষাকালী মন্দিরে হামলায় মূল ফটক তছতছ হয়ে যায়। ছবি: মাহমুদ জামান অভিএছড়া হাতিয়ায় ৭টি মন্দিরে ভাঙচুর হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।  সেগুলো হলো- শংকর মার্কেটের আশুতোষ ডাক্তার বাড়ির পূজামণ্ডপ, জগন্নাথ মহাপ্রভুর সেবাশ্রম পূজা মন্দির, রাধাগোবিন্দ সেবাশ্রম পূজা মন্দির, শ্রী লোকনাথ মন্দির পূজামণ্ডপ, তপোবন আশ্রম পূজা মন্দির, গুরুচাঁদ সত্যবামা পূজা মন্দির, হাতিয়া পৌরসভা কালী মন্দির এবং তার কাছাকাছি ৪-৫টি ঘরও ভাঙচুর করা হয়।

অষ্টমীর দিনে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি সীতারাম ঠাকুর সেবাশ্রম, গাজীপুরের কাশিমপুর সুবল দাশের মন্দির ও কাশিমপুর বাজার কালী মন্দিরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। একই দিনে কুড়িগ্রামের উলিপুর, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, হবিগঞ্জের বাহুবল, সিলেটের জকিগঞ্জের কালিগঞ্জ বাজার ও ভোলার নবীপুরে বেশ কয়েকটি মন্দির, পূজামণ্ডপে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

হামলার সময় ঘরবাড়ি-দোকান লুট

অষ্টমীর দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ও নাপোড়া গ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হয়। শেখেরখীলের মোহাম্মদ সাবের আহমেদ, গণ্ডামারার মোহাম্মদ রিদোয়ান ও নাপোড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম এসব হামলায় নেতৃত্ব দেন বলে রানা দাশগুপ্ত অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “সেদিন শেখেরখীল সার্বজনীন মন্দির ধ্বংস করা হয়। হরি মন্দিরের সামনের সড়কে হিন্দুদের ২০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। শেখেরখীল সার্বজনীন মহাশ্মশানের সীমানা প্রাচীর ও মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। নাপোড়ায় সার্বজনীন কালীবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” নাপোড়া বাজার থেকে কালীমন্দির পর্যন্ত সড়কে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলেও লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়।

হামলায় শেখেরখীলে সুকুমার দাস, সমীর দেব, দুলাল দেব, জুয়েল শীল ও লিটন দেব এবং নাপোড়ায় জহর লাল দেব, রতন শিকদার, আশুতোষ দেব, অনুপম দেব, জগদীশ পাল ও বোটন দেব আহত হন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

বাঁশখালীর পশ্চিম চাম্বল বাংলাবাজার করুণাময়ী কালীবাড়ির সার্বজনীন পূজা কমিটির দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করে মন্দিরের তৈজসপত্র লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এসময় প্রদীপ দাস, রঞ্জিত দাস, সবিতা বালা আহত হন।

এছাড়া শীলকূপে দাস পাড়া সার্বজনীন দুর্গা মণ্ডপ, কৈবল্য যুব সংঘ পূজামণ্ডপ ও শীলপাড়া পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে তথ্য দেওয়া হয়। ১৩ অক্টোবর রাতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শীলখালীর দুটি পূজামণ্ডপে প্রতিমা এবং স্থানীয় হরিমন্দিরে লুটপাট ও ভাঙচুরের পাশাপাশি ১৬টি বসতঘরও লুট করা হয়। এছাড়া মগনামা ইউনিয়নের ১২টি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। স্থানীয় সরস্বতী মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। পেকুয়া সদর, বারবাকিয়া ইউনিয়ন এবং চকরিয়ায় ৫টি মণ্ডপ ও স্থানীয় লোকনাথ মন্দিরে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

কর্ণফুলীতে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে হামলা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৪ অক্টোবর বান্দরবানের লামা উপজেলার লামাবাজারে কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরে দুর্গাপূজার মণ্ডপে হামলা চালিয়ে মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই হামলায় ৫০ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর ১০ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৮ জন ‍ডুলহাজারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান রানা দাশগুপ্ত। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “১৪ অক্টোবর কর্ণফুলী থানার জুলধা জেলেপাড়া পূজামণ্ডপে স্থানীয় জয়বাংলা ক্লাব থেকে এসে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া স্থানীয় দুই ভাই জয়নাল ও মনিরের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

“স্থানীয় ওসি দুলাল মাহমুদ হামলা হতে পারে এমন খবর আগে থেকে জানা স্বত্ত্বেও হামলা প্রতিরোধে কোনো রূপ ব্যবস্থা নেয়নি।”

৯ বছরে হিন্দুদের উপর ‘৩৬৭৯ হামলা’

১৮ অক্টোর, ২০২১, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলায় পূজামণ্ডপে হামলা ভাংচুরের মধ্যে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, গত নয় বছরে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ৩ হাজার ৬৭৯টি হামলা হয়েছে। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থাটি প্রতিবছরই মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি প্রতিবেদন দেয়। ২০১৩ সাল থেকে হিন্দুসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর হামলার ঘটনাগুলোও তারা প্রতিবেদনে আলাদাভাবে দিয়ে আসছে।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আসক নয় বছরে হিন্দুদের উপর সাড়ে ৩ হাজারের বেশি হামলার তথ্য দিলেও প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বলে দাবি করেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার একটি মণ্ডপে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকটি মণ্ডপ ও স্থাপনা ভাংচুর হয়। তার জের ধরে তিন দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭০টি পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ হিসাব দেয়।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট বছর নয় মাসে হিন্দুদের উপর ৩ হাজার ৬৭৯টি হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। এই সময়ে হিন্দুদের ৪৪২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৬৭৮টি। এসব হামলায় আহত হয়েছে ৮৬২ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। নিহত হয়েছে ১১ জন। এর বাইরেও ২০১৪ সালে দুজন হিন্দু নারী ধর্ষণের শিকার হন। শ্লীলতাহানি করা হয় আরও চারজনের। এছাড়া ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২০ সালে ১০টি হিন্দু পরিবারকে জমি ও বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দখলের অভিযোগ ওঠে।

আসকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত নয় বছরে হিন্দুদের উপর সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে ২০১৪ সালে। ওই বছরের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল। এর পরবর্তী সহিংসতার শিকার হন হিন্দুরা। ৭৬১টি হিন্দু বাড়ি-ঘর, ১৯৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২৪৭টি মন্দির-মণ্ডপে হামলা হয় ওই বছর। তখন নিহত হন একজন।

সবচেয়ে কম হামলা হয়েছে ২০২০ সালে। মহামারীর মধ্যে গত বছর ১১টি বাড়ি ও ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার তথ্য রয়েছে আসকের প্রতিবেদনে। তবে মন্দিরে হামলা হয়েছে ৬৭টি।

পীরগঞ্জে হামলায় পুড়ল ২০ বাড়িঘর

১৮ অক্টোবর, ২০২১, নিউজবাংলা টুয়েন্টিফোরডটকম

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বাটের হাট নামক এলাকায় রোববার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা ১৫ থেকে ২০টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি) সার্কেল কামরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক হিন্দু যুবক ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর কমেন্ট দিয়েছেন- এমন অভিযোগের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আমরা ওই যুবকের বাড়িটি প্রটেক্ট করতে পারলেও বেশ কিছু দূরে ১৫-২০টি বাড়িঘরে আগুন দেয় উত্তেজিতরা।

যখন বাড়িতে আগুন দেয়বাচ্চা নিয়ে জমিতে লুকিয়ে ছিলাম’

১৮ অক্টোবর ২০২১, প্রথম আলো

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা বিকেল রায়। গতকাল রোববার রাতের সহিংসতার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, যখন বাড়িঘরে আগুন দিতে শুরু করে হামলাকারীরা, তখন তিনি শিশুসন্তানকে নিয়ে পাশের খেতে লুকিয়ে ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘যখন বাড়িতে আগুন দেয়, তখন আমি বাচ্চা নিয়ে জমিতে লুকিয়ে ছিলাম। বাড়ির সব টাকাপয়সা নিয়ে গেছে। বাচ্চাটার খাওয়ার কিছু নাই।’

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর থেকে বাসিন্দারা আতঙ্কে সময় পার করছেন। কিরোন রানি নামের এক নারী কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘এই দ্যাশোত থাকার চাইতে মরি যাওয়াই ভালো। ভোরে আসি দেখি, কিচ্চু নাই। সোনা দানাসহ সব নিসে।’ নয়নী রাণী বলেন, সামনে মেয়ের বিয়ে। বিয়ের জন্য কিছু জিনিস কেনা হয়েছিল। শাড়ি-গয়না সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরে থাকা ১ লাখ টাকাও লুট হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবগুলো ঘরবাড়িতে গতকাল রাতের হামলা, ভাঙচুর আর আগুন লাগানোর চিহ্ন। এর মধ্যে আগুনে একেবারে পুড়ে গেছে ১৫টি পরিবারের ২১টি বাড়ির সবকিছু। সব মিলিয়ে গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। হামলাকারীরা গরু–ছাগল নিয়ে গেছে।

গ্রামজুড়ে টহল দিচ্ছেন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যরা। রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, হামলাকারীদের কোনো ছাড় নেই। তারা হানাদার বাহিনীর মতো বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।

কুমিল্লায় ঘৃণা থেকে শুরু হওয়া সহিংসতার সময়চিত্র

১৮ অক্টোবর ১৮, ২০২১, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

শারদীর দুর্গোৎসবের অষ্টমীর দিন ১৩ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে ৩০ বছর বয়সী একরাম হোসেন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির পাড় পূজা মণ্ডপে কথিত কোরআন ‘অবমাননা’র বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে মণ্ডপে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদা পোশাকে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি একা গিয়েছিলেন।

পরে ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ফয়েজ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি মণ্ডপ থেকে ফেসবুক লাইভে এসে কথিত অবমাননার প্রতিবাদের জন্য লোকজনকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। তার ৫৬ সেকেন্ডের ফেসবুক লাইভে তিনি ওসি আনোয়ারুল আজিমকেও দেখিয়েছিলেন। দ্রুত যুবকদের কয়েকটি দল এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়। তারা ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করতে শুরু করে। ৮টার ভেতর লোকজন মণ্ডপে আসতে থাকে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেখানে শ’খানেক মানুষের ভিড় জমে যায়। এর মধ্যে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমরান বাচ্চু ভিড় ঠেকাতে মণ্ডপের চারপাশে বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করে ফেলেন।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান ও জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পুলিশের ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্যসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বাড়ি মণ্ডপ থেকে ৩০০ গজ দূরে হলেও তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য তাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অনুরোধ করেছিল। কর্মকর্তারা তাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ১০টার আগে তিনি সেখানে যাননি।

ডিসি, এসপি, কাউন্সিলর বাচ্চু, সৈয়দ আহমেদ সোহেল নামের একজন প্যানেল মেয়র এবং স্থানীয় মসজিদের কয়েকজন ইমাম পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু লাল জার্সি পরিহিত ৬ থেকে ৭ জন যুবকের একটি দল তাদের সঙ্গে মারাত্মক তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

দলটি সেই মুহূর্তে পূজা বন্ধের দাবি জানাতে থাকে। প্রতিমাগুলো টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলতে চায়। মণ্ডপের শামিয়ানা টেনে নামাতে চায়। তারা স্লোগান দিতে থাকে: ‘বন্ধ বন্ধ, পূজা বন্ধ’, লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’।

এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার জন্য উপস্থিত জনতাকে উস্কানি দেওয়ার পাশাপাশি ১১টার দিকে যুবকের দল মণ্ডপে পাথর ছুড়তে শুরু করে। এর মধ্যে মণ্ডপের দুই পাশে লোকজন বেড়ে যায়। সাড়ে ১১টার দিকে তারা মণ্ডপে ভাংচুর শুরু করে।

পরিস্থিতি সামলাতে এর কয়েক মিনিটের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ডাকা হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায়। এতে জনাপঞ্চাশেক লোক আহত হয়। সে সময় ডিসি, এসপি ও মেয়র কাছের একটা বাড়িতে আশ্রয় নেন। পুলিশ ও জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ফেসবুক লাইভে আসা ফয়েজ ও পুলিশকে প্রথম ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা একরাম- দুই জনকেই সেদিন সকালে আটক করা হয়। তারা এখন কারাগারে আছেন।

এদিন দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শহরতলির অন্তত ১০টি এলাকা থেকে আসা মিছিল কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত পূবালী চত্বরে সমবেত হয়। মিছিলকারীরা শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ১৪টি পূজামণ্ডপের পাশাপাশি কালিঘাট তলা, চানময়ী কালিবাড়ি ও আনন্দময়ী মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। উপরে যে ঘটনাক্রম হাজির করা হয়েছে তার জন্য দ্য ডেইলি স্টার অন্তত ৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছে। দেখা হয়েছে ডজনখানেকের বেশি ভিডিও ক্লিপ। কিছু ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, মিছিলগুলোর নেতৃত্বে থাকা লোকজনের মধ্যে বেশিরভাগ কিশোর বয়সী। চোখে পড়ে, ভয়ানক সব স্লোগান দিতে দিতে তারা মন্দির ও মণ্ডপ ভাঙচুর করছে।

কুমিল্লা শহর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাস টিটু বলেন, ১১টা থেকে শুরু হয়ে সহিংসতা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। এ বছর শহরে মোট পূজা মণ্ডপ ছিল ৯১টি।

হামলাকারীরা কারা?

যেখান থেকে সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়া দীঘির পাড় এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, হামলাকারীরা বহিরাগত। যাদের বেশিরভাগ কিশোর বয়সী। তারা এসেছিল শহরতলীর মুরাদপুর, তেলিয়াঘোনা, কাশারিপট্টি, শুভপুর, টিক্কাচর এলাকাগুলো থেকে। নানুয়া দীঘির পাড়ের নিকটবর্তী মজুমদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা আমানত মজুমদার (৯০) ডেইলি স্টারকে জানান, স্থানীয়রা হামলাকারীদের আটকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি।

‘কারণ তারা বন্যার মতো এসেছিল। আমাদের পাড়ায় হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু এটা কখনোই আমাদের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। আমরা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছি। আমার পুরো জীবনে কুমিল্লায় এমন কোনো ঘটনা ঘটতে দেখিনি,’ বলেন এই বৃদ্ধ।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা ইসলাম আহমেদের মতে, ইসলামের কথিত অবমাননা একজন হিন্দু করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘এটাকে (কথিত কোরআন অবমাননার অভিযোগ) পূর্ব পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। হয়তো সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য কিছু লোক এটা করেছে।’ ১৯৯০ সালে থেকে নানুয়া দীঘির উত্তর পাড় মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পূজার তৃতীয় দিন অষ্টমীর সকালে কী ঘটেছিল তা জানতে মণ্ডপ থেকে কয়েক গজ দূরে একটি বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে ডেইলি স্টার।

ওই তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৭টায় আমি ডিউটিতে আসি। এখানে এসে আমি দুই জন নারী ও দুই জন যুবককে দেখতে পাই। দুই যুবকের মধ্যে একজন কোতোয়ালি থানার ওসিকে ফোন করলে তিনি ২০ মিনিটের মধ্যে চলে আসেন। যেহেতু বাইরের লোকজনকে মণ্ডপের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য পর্দা দেওয়া ছিল, তাই ভেতরে ঠিক কী হচ্ছিল, তা আমি দেখতে পাইনি।’ তার কাছ থেকে জানা যায়, ৭টার পর সেখানে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, একরাম হোসেন নামের যে ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন তিনি ঘটনাস্থল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের একটা এলাকায় বাস করেন। আর ফয়েজ আহমেদ ছিলেন প্রবাসী। এক বছর আগে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। এখন কুমিল্লা শহরে তার কাপড় ও মোবাইলের সরঞ্জামের দুইটি দোকান আছে।

একরামের মা সেলিনা আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার ছেলে নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া করে গত ১২ অক্টোবর সে বাড়ি ছাড়ে। ১৩ অক্টোবর আমরা জানতে পারি যে, তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’ মণ্ডপের তত্ত্বাবধায়ক জানান, পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাত আড়াইটার দিকে তিনি মণ্ডপ ত্যাগ করেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ফোনে জানতে পারেন যে, কেউ গণেশের প্রতিমার নিচে পবিত্র কোরআন রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পূজা কমিটির ঊর্ধ্বতনদের জানাই। মণ্ডপে পৌঁছে ওসিকে দুই যুবকের সঙ্গে কথা বলতে দেখি। দ্রুতই দীঘির পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে ভিড় জমে যায়। ‘এলাকার হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বন্ধন ও সম্প্রীতির পরিপ্রেক্ষিতে মণ্ডপে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি। আমরা কখনোই ভাবিনি যে অতিরিক্ত নিরাপত্তার দরকার হবে। কিছু লোক এর সুযোগ নিয়েছে।’

মেয়র দেরিতে এসেছিলেন

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মেয়র মনিরুল ইসলাম সাক্কুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত ৮টায় ঘুম থেকে উঠি। সকাল ৭টায় ওসির একটা কল আমি রিসিভ করতে পারিনি।’ তিনি জানান, ৮টায় কল ব্যাক করলে ওসি তাকে ঘটনাস্থলে যেতে অনুরোধ করেন।

মেয়র বলেন, ‘আমি বললাম আমার আসতে দেড় ঘণ্টা লাগবে। এর মধ্যে পূজা কমিটির কয়েকজন আমার বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। আমি তাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করি। আমি সেখানে পৌঁছাই সাড়ে ৯টার দিকে। সেখানে তখন এক থেকে দেড় শ লোক ছিল। আমি তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানাই। ডিসি ও এসপির উপস্থিতিতে বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ব্যর্থ হই।

‘এক পর্যায়ে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করলে আমি সিটি করপোরেশন থেকে ৪০ জন কর্মী ডেকে মণ্ডপের ভেতরের বাকি জিনিসপত্র সরিয়ে নেই। সেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। যদিও আমি পূজা কমিটিকে কিছু ক্যামেরা বসাতে বলেছিলাম।’ তার বাড়ি মণ্ডপের এত কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এত দেরিতে কেন আসলেন- জানতে চাইলে মেয়র পরিষ্কার কোনো জবাব দিতে পারেননি। ‘ঘুম থেকে উঠে আমি গোসল করেছি, কাপড় পরেছি। তারপর বাড়ির বাইরে বেরিয়েছি। সব মিলিয়ে সময় লেগেছে।’

পুলিশি অ্যাকশনে বিলম্ব

কোতোয়ালি থানার ওসি সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে একাই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এসপি পৌঁছান প্রায় ১০টার দিকে। হামলা শুরু হয় ১১টায়। এর মধ্যে উত্তেজিত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তারা সংগঠিত হতে থাকে। হামলার পর র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য ৪ ঘণ্টা সময় কেন লাগলো- জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাদের যথেষ্ট লোকবল ছিল। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

কোতোয়ালি থানার ওসি আনোয়ারুল আজিম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, অন্যদের আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা একরাম ও ফয়েজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা কেন অত আগে সেখানে গিয়েছিল এবং ফেসবুক লাইভের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি।’ মণ্ডপের ভেতর থেকে লাইভ করার সময় বাধা দিলেন না কেন- জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তথ্য নেন, কিন্তু কোনো প্রশ্ন করবেন না।’

হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা করা হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য, একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং বাকি দুটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে। পুলিশ জানায়, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তারা মোট ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…

যুক্তরাজ্যে ফিরলেও রাজপরিবারের দায়িত্বে ফিরছেন না হ্যারি-মেগান

যুক্তরাজ্যে প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেলের ফেরার খবরে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই হ্যারি ও মেগানের…

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

গণপতি পরিবারের ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ গেল কোথায়? উদ্ধার সম্ভব নয় কেন বলছে পুলিশ?

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার…

ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au