মেলবোর্ন, ১৩ জুন- অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্ন ধারণ করে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে জরুরি তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত ‘ইনট্রোডাক্টরি মাইক্রোইকোনমিকস’ বিষয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার কিছু প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর পরপরই চীনের জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম দৌইন-এ প্রকাশ করা হয়। দৌইন হলো টিকটকের চীনা সংস্করণ। পরীক্ষাটি সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রশ্নপত্রের অংশবিশেষ অনলাইনে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও মূল পোস্টগুলো পরে মুছে ফেলা হয়েছে, তবে স্ক্রিনশট ও পুনঃপ্রচারিত ভিডিও এখনো বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্ন ধারণ করতে শার্টের বোতামের ভেতরে লুকানো ক্ষুদ্রাকৃতির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিল।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে প্রশ্নপত্র দেখা গেছে, সেটি তাদের পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে পুরোপুরি মিল রয়েছে। ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এক শিক্ষার্থী অনলাইনে লিখেছেন, “যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে পরীক্ষাটি আবার নেওয়া হতে পারে।” আরেকজন বলেন, “কিছু শিক্ষার্থী যদি আগেই প্রশ্ন দেখে থাকে, তাহলে বাকিদের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা কীভাবে ন্যায্য হবে?”
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান ও পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, অভিযোগটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “একাডেমিক সততা লঙ্ঘনের যেকোনো অভিযোগ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্প প্রশ্নপত্রসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা আগে থেকেই গ্রহণ করে থাকে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সেবাও চালু রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং প্রশ্নপত্র কীভাবে পরীক্ষার কক্ষ থেকে বাইরে এসেছে, তা খতিয়ে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের যুগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য পরীক্ষা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।