বাংলাদেশ

আইয়ামে জাহেলিয়াত: ভাড়াটিয়া ইয়ুথ আর এজেন্ট ইউনুসের ১৮ মাসে জাতির পতন

সরদার সেলিম রেজা কবি ও পরিবেশ কর্মী সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র

  • 1:11 pm - June 13, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৭৪ বার
সরদার সেলিম রেজা। কবি ও পরিবেশ কর্মী, সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র ঢাকা।

মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ যে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে গেছে, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর বক্তব্য সেই ভয়াবহতার নকশা এঁকে দেয়। তিনি জানালেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ইসলামী ব্যাংকের আরডিএফ থেকে ২২০০০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। নির্বাচনের আগে ১১০০০ হাজার কোটি, নির্বাচনের সময় আরও ১১০০০ হাজার কোটি। দেশের ৫ কোটি ভোটারের কাছে প্রতিজন ১ লক্ষ টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন একটাই—নির্বাচন কমিশন কি তদারকি করেছে? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই চোখ বন্ধ করে দেখেছে কিভাবে গণতন্ত্রের লাশের উপর দাঁড়িয়ে উগ্রবাদ মাথা তোলে?

এরকম ঘটনা একটা নয়। আরো অনেক আছে। আমাদের যে ইয়ুথ আছে তারা বাংলাদেশের অলটারনেটিভ না। তারা বাইডেনের ২৯ বিলিয়ন ডলারের ভাড়াটিয়া। দেশের মাটি, মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাদের কাছে বোঝা। তাদের কাজ বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা, দেশের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। আমাদের নতুন প্রজন্ম তৈরি করতে হবে। যে প্রজন্ম টাকার কাছে মাথা নোয়াবে না, যে প্রজন্ম জানবে মুক্তিযুদ্ধ মানে কী, স্বাধীনতা মানে কী, জাতীয় সংগীত মানে কী, পতাকা মানে কী।

ড. ইউনুস শুধু শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আসেনি। সে এসেছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে। তার ১৮ মাসের শাসন ছিল বাংলাদেশের জন্য আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ। ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য অধ্যায়। ইউনুস চারটি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছে। নিষিদ্ধ শূকরের মাংস আমদানির চুক্তি করে গেছে! এদেশের তৌহিদী জনতার চেতনার দণ্ড কেন দাঁড়ায়নি তখন? কেন ধর্মীয় অনুভূতির নামে রাজপথ কাঁপেনি? নাকি উগ্রবাদ তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, যদি সেটা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির পক্ষ থেকে আসে?

ড. ইউনুস দেশপ্রেমিক নয়। সে দেশের উন্নয়ন চায় না। সে আমেরিকার এজেন্ট হিসেবে সেই দেশের স্বার্থে কাজ করেছে। সেদিন বাধা দিলে দেশবিরোধী চুক্তি করতে পারতো না। কিন্তু ক্ষমতায় বসার লোভে সবাই চুপ মেরেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে যারা দাবি করে, তারাই যখন নীরব থাকে, তখন জাতির কপালে এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?

হত্যা, বিনা বিচারে মানুষ হত্যা, লুটপাট, দুর্নীতির দায়ে মামলা রুজু করা হলেও মামলা থেকে রাজকীয় খালাস দেওয়া হয়েছে। খারিজ করা হয়েছে মামলা ! কিন্তু কেন? এটা কিসের ইঙ্গিত? বর্তমান সরকার যে উদাহরণ সৃষ্টি করলো তা মোটেই কাম্য নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম নজির আছে কি? রাষ্ট্র নিজেই যখন অপরাধীকে বাঁচায়, তখন বিচারব্যবস্থা থাকে না, থাকে প্রতিশোধের রাজনীতি। এই সরকার যদি বিচার না করে, পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ভবিষ্যতে তারা বিচার করবে। ইউনুসকে তার কর্মের খেসারত দিতেই হবে।

জানাজা নামাজ থেকে গ্রেফতার করা রাষ্ট্র কর্তৃক তার নাগরিকের প্রতি চরম ফ্যাসিস্ট আচরণ। যা ইউনুস সরকার আমল থেকে শুরু করে এখনও চলমান—যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। মসজিদের পবিত্রতা, মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ের মর্যাদা—সব ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। ইতিহাস সাক্ষী। তবু নির্লজ্জ ইউনুসের মতো সরকার প্রধান আর কেউ আসেনি। আইন, সংবিধান, শপথ—সবকিছু ভঙ্গ করেছেন তিনি।

৫ আগস্ট থেকে ইউনুসের ছাত্র সমন্বয়করা সারা দেশে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, দখলের নেতৃত্ব দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জোরজবরদস্তি করে, জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। চরম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যে তরুণদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ থাকার কথা, তাদের হাতে এখন লাঠি, পেট্রোল বোমা আর দখলের চাবি।

বাধার মুখে গাইবান্ধায় “এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাম মন্দির নির্মাণ স্থগিত” হয়ে গেল। অথচ এই কাজ তো ড. ইউনুসের আমলেই শুরু হয়েছিল। তখন কেন বন্ধ করেনি? তৌহিদী জনতার উদ্দেশ্য কি? আওয়ামী লীগের আমলে কোন ভাস্কর্য নির্মাণ করতে আন্দোলন শুরু হতো। এখন কেন নয়? নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুধু এক পক্ষের জন্য প্রযোজ্য, অন্য পক্ষের জন্য নয়?

সবচেয়ে ভয়ংকর দিক এখন সামনে আসছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীগণ এখন বলছেন—”কেউ যদি জানতো ১৯৭১ এর মুখে ২০২৪ কে দাঁড় করবে, সংগীত, জাতীয় পরিচয় পতাকা নিয়ে কথা বলবে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করে প্রতিরোধ যুদ্ধ বলবে, তাহলে দেখতাম কতজন জুলাই আন্দোলনে শরিক হতো। আমরাতো যেতাম না।”

এই স্বীকারোক্তি জাতির জন্য লজ্জা। মুক্তিযুদ্ধকে “প্রতিরোধ যুদ্ধ” বলে অস্বীকার করা, জাতীয় সংগীত-পতাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা—এটা কি জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল? যদি তা-ই হয়, তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ কেন রক্ত দিল?

পাঠ্য বইয়ে কার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে সেটার মানদণ্ড কি? অশিষ্ট মন্তব্যের জনক তার হাদি বীরত্ব নাকি পাঠ্য বইয়ে দেওয়া হবে? কেন? কি কার বীরত্ব? গালাগালি, ক্যারিকেচার, নোংরামীর পুরস্কার হিসাবে? যে ইতিহাস অস্বীকার করে, যে জাতীয় প্রতীক অবমাননা করে, সে কি জাতির আদর্শ হতে পারে? নাকি আমরা নতুন প্রজন্মকে শেখাবো—অপমান করাই বীরত্ব, অস্বীকার করাই দেশপ্রেম?

এই সব প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায়—বাংলাদেশ আজ এক ভয়ংকর পরীক্ষার মুখে। উগ্রবাদ, বিদেশি এজেন্ডা, লুটপাট, বিচারহীনতা, ইতিহাস বিকৃতি—সব মিলে জাতিকে টেনে নিচ্ছে ধ্বংসের দিকে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আবার জেগে উঠতে হবে। নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে যারা ইতিহাস জানবে, দেশপ্রেম বুঝবে, টাকার কাছে মাথা বিক্রি করবে না, জাতীয় সংগীত শুনে চোখের পানি ফেলবে, পতাকা দেখে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াবে।

ইউনুসের ১৮ মাস প্রমাণ করেছে—ক্ষমতা পেলেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না। ইতিহাস সব লিখে রাখে। ইউনুসের খেসারত, জামায়াতের অর্থের খেলা, ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র—সবকিছুর হিসাব একদিন হবেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার আসবে, বিচার করবে। কারণ জাতি ভোলে না, জাতি ক্ষমাও করে না।

এই শাখার আরও খবর

গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে তুলে নিল পুলিশ

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন দ্বিতীয় দিনেও উত্তপ্ত হয়ে…

দেশজুড়ে অর্থনৈতিক ধস, দারিদ্র্যসীমার নিচে যাচ্ছে ছয় কোটি মানুষ

বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কায় দেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের সংকট ও জ্বালানি…

১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করল বিমান

বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন এই বহরে থাকবে চারটি ওয়াইড-বডি এ৩৫০-৯০০…

দিনে দুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ফিরে এসে চুপচাপ সাব-রেজিস্টার

খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০…

দাতব্য অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রেপ্তার

শিশুদের একটি হাসপাতালের জন্য সংগ্রহ করা দাতব্য অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থী রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। বুধবার রাজধানী কলম্বো থেকে…

৯০ কোটি দেনা, বেড়াতেন পালিয়ে; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন

বলিউডের ‘বিগ বি’ খ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের জীবনেও এসেছিল এমন এক সময়, যখন তারকা খ্যাতি থাকলেও হাতে ছিল না কাজ, ব্যাংকে ছিল না টাকা। একসময়…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au