কঠোর নিরাপত্তা বিধিতে শ্রেণিকক্ষে ফিরল ইউএইর শিক্ষার্থীরা
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কয়েক সপ্তাহ দূরশিক্ষণের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে লাখো শিক্ষার্থী। সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে স্কুল,…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের একটি অংশ ৮০০ জন তৃণমূল কর্মীর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। ওই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে পারে বলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছে।
এই খবর পাওয়ার পরই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে তৃণমূল কংগ্রেস আদালতের হস্তক্ষেপ চায়। দলের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে একপাক্ষিকভাবে বিরোধী দলের কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে আবেদন করেন তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আদালতে জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য পুলিশ যে তালিকা তৈরি করেছে, সেখানে তৃণমূলের ৮০০ কর্মীর নাম রয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবেদনে দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ চাওয়া হলে আদালত বিষয়টি গ্রহণ করে এবং তৃণমূলকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। পাশাপাশি বুধবার এই মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রায় সাত হাজার বুথকে “অতি স্পর্শকাতর” হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এসব এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই পুলিশ এই ধরনের তালিকা প্রস্তুত করেছে, যা এক ধরনের রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়। দলের নেতাদের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের কর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও বিভিন্ন জনসভায় এই ধরনের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আদালতের আসন্ন শুনানির ওপর এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে, যা এই বিতর্কের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au