কঠোর নিরাপত্তা বিধিতে শ্রেণিকক্ষে ফিরল ইউএইর শিক্ষার্থীরা
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কয়েক সপ্তাহ দূরশিক্ষণের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে লাখো শিক্ষার্থী। সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে স্কুল,…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (গতকাল) দুপুরে উপজেলার সনকা খ্রিস্টানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মুর্মু ও সরেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে ঘোড়াবন্দ গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে রেজাউল ইসলামের ৯৩ শতাংশ খাস জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত।
স্থানীয়দের দাবি, আদিবাসী পরিবারগুলো কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই জমিতে বসবাস করছে। সেখানে একটি মন্দির এবং একটি কবরস্থানও রয়েছে, যা তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। তবে রেজাউল ইসলাম ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে রেজাউল ইসলাম ও তার চাচা আজাদের নেতৃত্বে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল ওই এলাকায় প্রবেশ করে। তারা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মন্দির ও কবরস্থানে হামলা চালায়। এ সময় মন্দিরের ভেতরে ও বাইরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয় এবং কবরস্থানের ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। পাশাপাশি একটি ঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে।
হামলার সময় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে ভাঙচুর করা প্রতিমা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবিঃ সংগৃহীত
আহতদের মধ্যে পিউস মুর্মু (৪৫) ও বিশ্বনাথ (২৭) কে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বিশ্বনাথ সরেনের বুকে তীরের আঘাত রয়েছে, যা তার অবস্থাকে গুরুতর করে তুলেছে।
আহত পিউস মুর্মু বলেন, তারা বহু প্রজন্ম ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন। তাদের দাবি, জমিটি তাদের বসবাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করেই একটি পক্ষ অবৈধভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় আদিবাসী নেতা অ্যান্থনি মুর্মু জানান, তারা ওই এলাকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। সনকা খ্রিস্টানপাড়া গ্রামে ৫০ থেকে ৬০টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করে। পাশাপাশি আশপাশের আরও দুই শতাধিক ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার ওই কবরস্থান ব্যবহার করে আসছে। তিনি জানান, গ্রামে হিন্দু ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মাবলম্বী আদিবাসী পরিবার বসবাস করে এবং এটি একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা ছিল।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ১৯৯৯ সালে ৪১ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে আরও ৪৮ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। তার দাবি, বাকি ৪ শতাংশ জমি কবরস্থানের অংশ। তিনি আদিবাসীদের ওপর হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেন।
বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফারিহা তাসনিম জানান, আহত বিশ্বনাথ সরেনের শরীরে তীরের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বীরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর বর্মন জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি মূলত সরকারি খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্রঃ ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au