সরকার ৫২ দিনে সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫২ দিনের মধ্যেই ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে দাবি করেছেন বিরোধী দলীয়…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- ইরানে চলমান সংঘাত ও ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার প্রভাব দিন দিন গভীর হচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকায়।
তেহরানের সড়কবাজারে এখনো রঙিন ফল ও সবজি বিক্রি হলেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। কমলা, শিম বা স্ট্রবেরি কিনতে গিয়ে বাড়তি দামের চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। গত এক বছরে খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
ইরানের ভেতরে এমনকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও জনগণকে সতর্ক করে বলছেন, সামনে আরও কঠিন সময় আসছে। ব্যয় কমিয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে সর্বত্র।
এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চলতে থাকলে ইরান সরকার কি নিয়মিতভাবে কর্মচারীদের বেতন দিতে পারবে? একই সঙ্গে তেহরান কি আলোচনার পথ থেকে সরে আসার মতো অর্থনৈতিক অবস্থায় আছে, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সংঘাত শুরুর আগেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নে দেশের বহু পরিবার টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছিল। অধিকাংশ পরিবার শুধু প্রয়োজনীয় খরচেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, চেক বাউন্স এবং পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে ক্ষতির কারণে অর্থনীতিতে মন্দা তীব্র আকার নিয়েছে।
রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইরানের মুদ্রা রিয়াল আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই সংঘাতের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট পরিসরের অনলাইন ব্যবসা পরিচালনাকারী নারীরা। ইন্টারনেট অবরোধের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে তাদের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বহু পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হঠাৎ করেই হারিয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যুদ্ধ ও ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা শুধু অবকাঠামো নয়, ইরানের সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশের জীবন-জীবিকাকেও গভীর সংকটে ফেলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au