সাফের হ্যাটট্রিক মিশনে ভারত-মালদ্বীপের গ্রুপে বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দল এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে নামছে, যেখানে…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক জনমত জরিপে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্কাই নিউজ পালস এবং ইউগভের যৌথভাবে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো মূল ভোটের হিসাবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং ওয়ান নেশন পার্টি সমান অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিরোধী কোয়ালিশনের জনপ্রিয়তা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে নিচের পর্যায়ে নেমে গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, লেবার পার্টির মূল ভোট সমর্থন তিন শতাংশ কমে ২৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পতনকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপ ও জনঅসন্তোষের ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়ান নেশন পার্টি দুই শতাংশ বেড়ে একই ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দলটির জন্য এক ধরনের ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলধারার রাজনীতির বাইরে থাকা একটি দলের জন্য বড় ধরনের জনসমর্থন বৃদ্ধি।
১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে মোট ১৫০১ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়, যা দেশের ভোটার জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে কোয়ালিশন বা বিরোধী জোটের অবস্থা আরও দুর্বল। তাদের ভোট সমর্থন ২০ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে প্রায় সর্বনিম্ন অবস্থান। এর বিপরীতে গ্রিনস পার্টি উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটিয়ে ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তাদের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ সমর্থন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে মোট ১৫০১ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। ছবিঃ স্কাই নিউজ
জরিপে আরও দেখা যায়, মূল ভোটের হিসাবে পরিবর্তন এলেও যদি দুই প্রধান দলের মধ্যে তুলনা করা হয়, তাহলে লেবার পার্টি এখনো এগিয়ে আছে। দুই দলের সম্ভাব্য ভোট হিসাব অনুযায়ী লেবার ৫৩ শতাংশ এবং কোয়ালিশন ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেতে পারে।
তবে ওয়ান নেশন পার্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, তারা শ্রমজীবী ভোটার, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব তৈরি করেছে। জরিপ বলছে, শ্রমজীবী শ্রেণির ৩৪ শতাংশ ভোটার ওয়ান নেশনকে সমর্থন করছে, যেখানে লেবার পেয়েছে ২২ শতাংশ এবং কোয়ালিশন মাত্র ১৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় ধরনের সামাজিক অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
ইউগভের পাবলিক ডেটা বিভাগের পরিচালক পল স্মিথ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবার পার্টি ভোটে এগিয়ে থাকলেও তাদের মূল ভোটভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, অভিবাসন ইস্যুতে কোয়ালিশনের কঠোর অবস্থান ওয়ান নেশনের উত্থানে সহায়ক হয়েছে, কারণ ভোটাররা এই ইস্যুতে ওয়ান নেশনকেই তুলনামূলকভাবে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে।
জরিপে অর্থনৈতিক চাপও বড় একটি প্রভাবক হিসেবে উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের ৬৩ শতাংশ জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে হয় দেরি করছেন, নয়তো চিকিৎসা নেওয়া এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই বাস্তবতা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও জনমত বিভক্ত। ৫৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও সংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করা উচিত, যদিও এতে সরকারের ঘোষিত শূন্য কার্বন লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ৬৩ শতাংশ মানুষ ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি সীমিত। জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন প্রকাশ করেন, দেশে বর্তমানে গড়ে ৩৮ দিনের পেট্রোল, ২৮ দিনের জেট ফুয়েল এবং ৩১ দিনের ডিজেল মজুত রয়েছে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের জনপ্রিয়তাও এই জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সন্তুষ্টির হার কমে গিয়ে নেট রেটিং দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৯-এ, যা আগের জরিপের তুলনায় আরও তিন পয়েন্ট কম। এটি তার নেতৃত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলরের অবস্থানও খুব একটা শক্ত নয়। তিনি জনপ্রিয়তার দিক থেকে আলবানিজের পিছনে রয়েছেন। জরিপে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ মানুষ আলবানিজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেন, যেখানে টেইলরকে সমর্থন করেছেন ৩৯ শতাংশ।
ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসন প্রধানমন্ত্রী পছন্দের তালিকায় আরও পিছিয়ে আছেন, তবে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ভোটার, বিশেষ করে শ্রমজীবী, বয়স্ক এবং গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে তার অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক মন্তব্য। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ একটি সাক্ষাৎকারে সবাইকে “এক জাতি হিসেবে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার” আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের পর পলিন হ্যানসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি তার দলের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে মিল রয়েছে এবং প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী কি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়ান নেশনের কথাই সামনে আনছেন কি না।
সব মিলিয়ে এই জরিপ অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে একটি পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে মূলধারার বড় দলগুলোর প্রতি আস্থা কমছে এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন বাড়ছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au